কারখানার বর্জ্যে মরছে খামারের মাছ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

ধামরাইয়ের বেলিশ্বর গ্রামের একটি অবৈধ ব্যাটারি ও সিসা কারখানার এসিডের বর্জ্যে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেলিশ্বর

দক্ষিণপাড়া নিলাই বিলের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠে। এতে ওই খামারের ছয়জন মৎস্যচাষি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

সরেজমিন গিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ধামরাইয়ের সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা গ্রামের লুৎফর রহমান, ইউনুস আলী, মোকছেদ আলী, কিরণ মিয়া, সোহরাবসহ ছয়জন বেকার যুবক প্রায় ২০ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে বেলীশ্বর দক্ষিণপাড়ার ব্যক্তিমালিকানাধীন ৩৬ একর জমি লিজ নিয়ে মৎস্য খামার করেন। এ খামারে রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া, বিগ্রেডসহ কয়েক প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন তারা। এ খামারের পাশেই চায়না নাগরিকদের মালিকানাধীন অবৈধ ব্যাটারি ও সিসা তৈরির কারখানা রয়েছে। এ কারখানার ব্যাটারি গলানোর এসিড বর্জ্যে সরাসরি ওই মৎস্য খামারে ফেলানোর কারণে বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই মৎস্য খামারের সব মাছ মরে ভেসে ওঠে। তারা জানান, অবৈধ ব্যাটারি ও সিসা তৈরির এসিডের বর্জ্য ফেলার কারণে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ মরে গেছে। গত বছরও ওই কারখানার বর্জ্যে মাছ মরে ভেসে উঠেছিল। ওই সময় স্থানীয় সুতিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কারখানার কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এবারও তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এখন কারখানা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ না দিলে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।

সরেজমিন দেখা যায়, কারখানার দূষিত পানি মৎস্য খামারেই ফেলছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিলের কচুরিপানা পর্যন্ত মরে গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কারখানায় গেলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সুতিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, এর আগেও কারখানা কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়েছিল, কিন্তু তারা কোনো তোয়াক্কা করেনি। ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিষদ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্সও নেয়নি। অবৈধভাবেই তারা কারখানা পরিচালনা করে আসছে।