পুলিশে চাকরি পেলেন দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বাবা স্বপন রায় নরসুন্দরের কাজ করেন। গ্রামের ছোট্ট একটি বাজারে ভাড়া দোকানে রয়েছে সেলুন। সেই সেলুনের আয় দিয়েই কোনোরকমে তাদের সংসার চলে। কোনোদিন ভাবেননি পুলিশের চাকরি পাবেন উৎকোচ ছাড়াই। বৃহস্পতিবার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের ১৩১ জনের কনস্টেবল পদে চাকরি হয়। তাদের মধ্যে সুব্রত কুমার রায় একজন। পুলিশের চাকরি পেয়ে এভাবেই তিনি মনোভাব প্রকাশ করেন। সুব্রত রায়ের মতো কামার, জেলে, কৃষক, দিনমজুর, ভ্যানচালক, দর্জি, পিতৃহীন সন্তানদের এবার মানিকগঞ্জে পুলিশে চাকরি হয়েছে।

শিবালয় উপজেলার পপি আক্তার জানান, তার বাবা আশেক আলী একজন ভ্যানচালক। দুই বোন এক ভাই রয়েছেন। মাত্র একশ' তিন টাকা খরচ করে তার পুলিশের চাকরি হয়েছে। ঘিওর উপজেলার পেচারকান্দা গ্রামের সুমি আক্তার জানান, তার বাবা কৃষি কাজ করতেন। এখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। বাবার স্বপ্ন ছিল পুলিশের চাকরি পাওয়ার। বিনা পয়সায় কোনো তদ্বির ছাড়াই সেই স্বপ্ন সত্য হয়েছে।

বকুল আক্তারের বাবা ছোটবেলায় তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বড় বোনের সংসারে থেকে এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। পুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। পরীক্ষায় তিনি প্রথম হয়েছেন। তার ধারণা ছিল মেধায় চাকরি হয় না। কিন্তু পুলিশ সুপার তার ধারণা পাল্টে দিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য ২ হাজার ৯০৯ জন আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে বাছাই ও লিখিত পরীক্ষায় মনোনীত হন ৯৫৯ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২২৩ জন। চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পান ১৩১ জন। তাদের মধ্যে ৮৯ জন পুরুষ ও ৪২ জন নারী। যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সদস্য।