টঙ্গিবাড়ীতে স্মার্টকার্ড বিতরণে অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল-বানারী ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়নে স্মার্টকার্ড বিতরণে নানা অনিয়মে ক্ষুব্ধ হাজারো ভোটার। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর অপেক্ষার প্রহর গুনে ভাগ্যে জোটেনি স্মার্টকার্ড। প্রখর রোদে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কার্ড না পাওয়া, হারানো ভোটার স্লিপের ফটোকপি দিয়ে কার্ড প্রদান না করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন ভোটাররা।

জানা গেছে, গত সোমবার থেকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল-বানারী ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়নের স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু হয়। গত তিন দিনে প্রায় নয় হাজার ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়েছে। বানারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মার্টকার্ড বিতরণে হাসাইল-বানারী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হাওলাদার উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় দেখা দেয় অব্যবস্থাপনা।

স্থানীয় একাধিক নারী-পুরুষের অভিযোগ, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের দিনভর স্মার্টকার্ড সংগ্রহে বিতরণস্থলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। মাথার ওপরে ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ভোটারদের সুবিধায় ব্যবস্থা নিলে এ দুর্ভোগ হতো না। প্রখর রোদে ২০-২৫ জন ভোটার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

ইউএনও মোহাম্মদ বদর-উদ-দোজা ভূঁইয়া জানান, বাঁশ-বেড়ার ছাউনি দিতে হাসাইল-বানারী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হাওলাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তিনি কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি, তা জানা যায়নি। ইউপি সদস্য কুদ্দুস মুন্সী ও আলী আকবর ঢালী জানান, উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস থেকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান কাউকে অবগত করেননি।

ভোটার চান মিয়া ব্যাপারি বলেন, চেয়ারম্যান ভোটারদের জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা দিয়ে ছাউনি ও বাঁশের বেড়া না দিয়ে সবাইকে অবহেলা করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হাওলাদারের মোবাইলে ফোন করা হলে সংবাদকর্মী পরিচয় পেলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আওয়ামী লীগ নেতা কবির খান জানান, দিনভর দেখেছি, তুচ্ছ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে জরিমানার নামে হাজার হাজার ভোটারের কাছ থেকে ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। আদায়কৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে, না-কি ব্যক্তির পকেটে যাবে, তা নিয়েই প্রশ্ন। উপজেলা নির্বাচন অফিসের সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভোটার স্লিপ হারানোর জরিমানা হিসেবে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৬৮ টাকা আদায় করেছেন।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদর-উদ-দোজা ভূঁইয়া জানান, স্মার্টকার্ড বিতরণে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।