সোনারগাঁয়ে পুলিশের মারধরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৯

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি এলাকায় সোনারগাঁ থানার এক এএসআই ও কনস্টেবলের মারধরে আব্দুল বাদশা নামের এক সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে ওই ব্যবসায়ী চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশ সদস্যরা তাকে বেধড়ক পেটান। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী নয়াপুর-পঞ্চমীঘাট সড়ক অবরোধ করে রাখেন। অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে ও স্থানীয় মসজিদের সভাপতি আব্দুল বাদশা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন তেলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত সোমবার বিকেলে সোনারগাঁ থানার এএসআই মাসুদ তার দোকানে গিয়ে ব্যবসায়িক কাগজপত্র দেখার নাম করে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান। শুক্রবার সাদা পোশাকে ওই এএসআই মাসুদ কনস্টেবল তুষারকে নিয়ে ফের ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। এ সময় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আব্দুল বাদশার ছেলে মিঠু বসা ছিলেন। এ সময় মিঠুর কাছে এএসআই মাসুদ ও কনস্টেবল তুষার কাগজপত্র দেখতে চান। মিঠু কাগজপত্র তার বাবার কাছে রয়েছে বলে জানান। মিঠু তার বাবাকে ফোন দিলে তিনি আসেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ফের আব্দুল বাদশার কাছে টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা ও ছেলে মিঠুকে পুলিশ সদস্যরা চড়থাপ্পড় ও মারধর করেন। এ সময় ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নানাখি গ্রামের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম ও আবু সুফিয়ান বলেন, সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমাদের ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ যখন-তখন নানা অজুহাতে আমাদের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলেই আমাদের মারধর করে। তা ছাড়া মামলার হুমকি দিয়ে থাকে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করছি।

সাদিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, এলাকার লোকজনের ভাষ্যমতে, পুলিশের মারধরে ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানার এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এএসআই মাসুদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।