বৃষ্টি উপেক্ষা করে পর্যটকের ঢল

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

শাহাদাত হোসেন রতন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদুল আজহার ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের ভিড়। ঈদের দিন থেকে টানা তিন দিন ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর ছিল বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, বাংলার তাজমহল ও পিরামিডসহ সোনারগাঁয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থানগুলো। সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, বাংলার তাজমহল ও পিরামিড, রয়েস রিসোর্ট পার্ক, সামারা ভিলেজ পার্ক, ঐতিহাসিক পানাম নগরী, বারদীতে জ্যোতি বসুর জাদুঘর, বৈদ্যের বাজার মেঘনা নদীর ঘাট, কাইকারটেক ব্রিজ এলাকা, দ্বিতীয় মেঘনা সেতুসহ বেশ কয়েকটি স্থানে দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মিলন মেলায় পরিণত হয়। ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দিনভর বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। কমতি ছিল না তাদের আনন্দ। ঈদের দিন লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন বন্ধ ছিল। ওই দিনও পর্যটক সমাগম ঘটে ফাউন্ডেশনের আশপাশ এলাকায়।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা তিন দিন ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা থেকে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, বাংলার তাজমহল-পিরামিড, পানাম সিটিসহ সোনারগাঁয়ের প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন থেকে ঈদের পরের দিন ও গতকাল বুধবার দিনভর বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় ছিল। সবচেয়ে বেশি পর্যটকের উপস্থিতি ছিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নির্মিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, সোনারগাঁয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল পেরাব এলাকায় বাংলার তাজমহল ও পিরামিডে। রঙ-বেরঙের পোশাক পরা অনেক দর্শনার্থী ফাউন্ডেশন চত্বরের লেকে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে নৌকা দিয়ে বেড়ানোর মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন। শিশু-কিশোররা নাগরদোলায় দোল খেয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেছেন। ঈদের দিন বন্ধ থাকলেও পরের দিন থেকেই লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন খোলা রাখা হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে লোকশিল্প জাদুঘর প্রাঙ্গণ। জাদুঘর প্রাঙ্গণে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজে ছবি ওঠাতে ব্যস্ত ছিলেন যুবকরা। এ ছাড়া বড় সর্দারবাড়ির অপূর্ব কারুকার্য মোহিত করে দর্শনার্থীদের। সবচেয়ে বেশি ভীড় করেন বড় সর্দারবাড়ির প্রবেশ মুখে। কাচ আর শিল্পীর অপূর্ব শৈল্পিক শিল্পকর্ম মোহিত করে সকল শ্রেণির মানুষকে। এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা সবকিছু মিস করলেও বড় সর্দারবাড়ির প্রবেশ মুখে ছবি তুলতে ভোলেন না। দর্শনার্থীর চাপে সর্দারবাড়ির স্মৃতিকে ধরে রাখতে পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টিতে ছাতা নিয়ে ছবি তুলেছেন অনেকেই। আগত দর্শনার্থীরা জাদুঘরের ভেতর কারুপল্লীতে জামদানি শাড়িসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প সামগ্রী কেনাকাটা করেছেন।

বাংলার তাজমহলের প্রতিষ্ঠাতা ও চিত্রপরিচালক আহসান উল্যাহ মনি জানান, প্রতি বছরই প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বাংলার তাজমহলে পর্যটকের ব্যাপক ভিড় হয়। এ বছরও ঈদুল আজহায় ব্যতিক্রম ঘটেনি। বৃষ্টি উপক্ষো করে পর্যটকরা এখানে আসছেন। পর্যটকদের আনন্দ দিতে তাজমহলের পাশে নির্মিত হয়েছে বাংলার পিরামিড ও রাজমনি শিক্ষাপার্ক। এ পার্কে এসে দর্শনার্থীরা আরও বেশি উপভোগ করতে পেরেছেন।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহ জানান, পর্যটকদের ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে দিতে কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। ঈদের দিন ফাউন্ডেশন বন্ধ থাকলেও পরের দিন থেকে ফাউন্ডেশন খোলা ছিল। প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রকৃতির বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও পর্যটকের উপস্থিতি কমতি ছিল না।