আড়াইহাজারে চাল নিয়ে চালবাজি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৯      

সফুরউদ্দিন প্রভাত, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ)

চালের দাম এমনিতেই বেশি তার ওপর এখন বাজারে ভালো, নির্ভেজাল চাল পাওয়াই যায় না। বাজার ভরা ভেজাল চালে। আপনি বাজার থেকে চিকন চাল কিনে আনবেন আর পাক করার পর দেখবেন মোটা চালের ভাত রান্না হয়েছে। এর ওপর প্লাটিকের চালের বিড়ম্বনা তো রয়েছেই। কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোপালদী বাজারে চাল কিনতে আসা আব্দুল মান্নান। একই অভিযোগ বাজারে চাল কিনতে আসা শহীদুল ইসলাম, আলম মিয়া, রেজওয়ান রাব্বি, আল-আমিনসহ আরও অনেকের।

তারা জানান, চাল উৎপাদনকারী অর্থাৎ চাষিরা কখনও এ তেলেসমাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা মোটা চালকে মোটা চাল বলে এবং চিকন চালকে চিকন চাল বলেই বিক্রি করে। কারসাজি যা হয় তা চালকলে আর পাইকারি বিক্রেতাদের গোডাউনে। মিলে আসার পর সব মোটা চাল সরু চিকন চাল হয়ে যায়। যেদিন থেকে চালের বাজারজাতকরণ মিল মালিকের হাতে চলে যায় সেদিন থেকে চাল নিয়ে চালবাজি শুরু হয়ে যায়। আবার বাজারে পাইকারদের গোডাউনে ব্র্যান্ডের বস্তা খালি করে মোটা চাল বস্তায় ভরে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে চলছে। 

ক্রেতা আব্দুল আউয়ালসহ ওই বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গোপালদী বাজারসহ অন্য বাজারগুলোতে নকল মিনিকেট চালে সয়লাব হয়ে গেছে। উচ্চমূল্যে বাজার থেকে এই চাল কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। একশ্রেণির অসাধু মিল মালিক ও পাইকাররা কারসাজি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও চাল ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। যারা ভেজাল চাল বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চেষ্টা করেন ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের নাজেহাল হতে হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জল হোসেন গোপালদী বাজারের চালপট্টিতে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চাল ব্যবসায়ী ছাইদুল হককে ২০ হাজার টাকা, সাইফুল ইসলামকে ১০ হাজার, ইব্রাহীম খলিল, শ্যামল সাহা, আমানউল্লাহ প্রত্যেককে ৫ হাজারসহ মোট নয়জন চাল ব্যবসায়ীকে ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং প্রত্যেক চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করেন। এ সময় পাট পরিদর্শক আশিক কুমার ভৌমিক সঙ্গে ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহাগ হোসেন বলেন, ব্র্যান্ডের বস্তা খালি করে মোটা চাল বস্তায় ভরে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তারপরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।