জাবি ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৯

জাবি সংবাদদাতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান দুর্নীতি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রকৃতি ধ্বংসের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আল বেরুনী হলের প্রাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম।

অভিযোগকারী সোহায়েব ইবনে মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের আবাসিক ছাত্র।

অভিযুক্ত সাইফুর রহমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আল বেরুনী হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী বলে জানা যায়। এর আগে অভিযুক্ত সাইফুর রহমানকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি র?্যাগিংয়ের ঘটনায় হাতেনাতে ধরেন প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এ ঘটনায় সাইফুর রহমানসহ ৪৭তম ব্যাচের সাত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।

অভিযোগকারী সোহায়েব জানান, গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরে'র ব্যানারে মিছিলে তিনি অংশগ্রহণ করেন। মিছিল শেষে তিনি হলে ফিরলে রাত ১২টার দিকে অভিযুক্ত সাইফুর রহমান মিছিলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি বলেন, 'দাবিগুলো যৌক্তিক তাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।'

তিনি আন্দোলনের তিনটি দাবির কথা বলেন। এর মধ্যে একটা দাবি ছিল প্রকল্পের টাকার দুর্নীতির বিচার করা। এ সময় সাইফুর বলেন, দুর্নীতি হলে তদন্ত হবে। 'তুই কেন মিছিলে গেছিস?' তিনি উত্তর করতেই সাইফুর পানিভর্তি বোতল তার বুকে ছুড়ে মারেন। পরে সাইফুর তার বুকে আঘাত করে এবং কলার টেনে ধরে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাইফুর রহমান সরকারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

আল বেরুনী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম বলেন, 'আমি অভিযোগপত্র পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই হলে জরুরি মিটিং ডেকেছি। রাতে মিটিংয়ের পর সিদ্ধান্ত নেব।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, 'ঘটনা জেনেছি। যেহেতু এটা হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই হল প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। হল প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।'