রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট উচ্ছেদ মেয়র আইভীসহ ১০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৯      

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ ১০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। গত বুধবার রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট ভেঙে দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের চতুর্থ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক শাকিল আহমেদ এ নির্দেশ দেন। মেয়র আইভীসহ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), এনডিসি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পরিষদের সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশু, আবদুস সাত্তার ও নূরুল হককে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ২০০৮ সালে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই সময় নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় গত ২০ জুন মেয়র অবৈধভাবে জোর করে ভবনটি ভেঙে দেন। এতে ওই ভবনের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়।

গত ২০ জুন ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবনটিতে প্রায় ৩৫টি দোকান ছিল। প্রতিটি দোকানেই লাখ টাকার পণ্য ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদের কোনো সময় দেওয়া হয়নি। সকালে এক্সক্যাভেটর নিয়ে এসে সরাসরি ভবন ভাঙা শুরু হয়। ব্যবসায়ীরা কোনো মালপত্র সরাতে পারেননি। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগের বিষয়ে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবেলা করা হবে। তাছাড়া রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটটি অবৈধ ছিল। কারণ যে ভবনটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সে ভবনের পরিবর্তে ভেঙে দেওয়া ভবনের পাশেই জমি দিয়ে ভবন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তার পরও রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ অসৎ উদ্দেশ্যে পুরনো ভবনটি জোর করে ব্যবহার করে আসছিল। তাছাড়া এ ভবনটির কারণে বৃহত্তর দেওভোগ এলাকার রাস্তাটি সরু অবস্থায় ছিল।