ধামরাই

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ টাকায় মুক্তি

সাজানো নাটকে অর্থ হাতিয়ে নিল প্রতারক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

ধামরাইয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আবদুল মজিদ নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতে। আবদুল মজিদ ধামরাইয়ের বারবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের উত্তরপাশে রাইস মিল ও মুদি ব্যবসায়ী। এছাড়া সোমবার সকালে এক স্কুলছাত্রকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে। ওই ছাত্রের বাবার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ জানান, ধামরাইয়ের বারবাড়িয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উত্তর পাশে তার নিজস্ব রাইস মিল ও মুদি দোকানঘর বন্ধ করে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস থেকে তিন-চারজন নেমে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে জোর করে তাতে তুলে ঢাকার দিকে যেতে থাকে। এরপর তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে মারধর করতে থাকে তারা।

একপর্যায়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ অবস্থায় সারারাত তাকে মাইক্রোবাসে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাতে থাকে। পরে গভীর রাতে আবদুল মজিদ মোবাইল ফোনে তার বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানান এবং অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ( বিকাশ নম্বর- ০১৯৬৮৪১২৯১৮ ) ১০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। এরপর আবদুল মজিদকে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ছেড়ে দেয় তারা।

আবদুল মজিদ আরও জানান, ওই মাইক্রোবাসে ধামরাইয়ের কালামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অপহৃত আরও চারজন ছিলেন। তবে তাদের কাউকে তিনি চেনেন না। মুক্তিপণ পেয়ে সবার আগে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়।

এদিকে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে ধামরাই বাজারের দন্ত চিকিৎসক জিয়াউদ্দিন সিকদারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তার ছেলে মোনায়েম সিকদারের কণ্ঠস্বর অবিকল নকল করে বলতে থাকে, 'আব্বু আব্বু আমাকে বাঁচাও বাঁচাও।' এরপর ফোনটির কল কেটে দেওয়া হয়। পরে ওই মোবাইল ফোনেই জিয়াউদ্দিন সিকদারকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলা হয়, 'আপনার ছেলে আমাদের কাছে আছে। তাকে পেতে চাইলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে তাকে মেরে ফেলা হবে।'

এ কথা শুনে মোবাইল ফোনে প্রায় আধা ঘণ্টা দেনদরবার করে প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন জিয়াউদ্দিন সিকদার। এর পর ওই প্রতারক চক্র আরও টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে জিয়াউদ্দিন সিকদার থানার দ্বারস্থ হন।

পরে তিনি ধামরাইয়ের বিজয়নগরে অবস্থিত টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজে ফোন করে জানতে পারেন, তার ছেলে স্কুলেই আছে। তাকে অপহরণ করা হয়নি। মোনায়েম সিকদার ধামরাইয়ের বিজয়নগরের টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র।

এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সাভার কার্যালয়ের ডিবি পুলিশের ওসি আবুল বাসার বলেন, তাদের কোনো দল রবি ও সোমবার ধামরাই থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের সদস্যদের ধরতে এরই মধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।