দোহার

পদ্মায় প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলনের উৎসব

বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ভেস্তে যাচ্ছে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, প্রতি ট্রাক বালু ১৭০০ টাকা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

মাহবুবুর রহমান টিপু, দোহার (ঢাকা)

দোহারে পদ্মা নদীতে প্রভাবশালীরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলনের ফলে সম্প্রতি উপজেলার মৈনটঘাট এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার আবাদি-অনাবাদি জমি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

জানা যায়, উপজেলার মৈনটঘাট, চরমাহমুদপুর, চরলটাখোলা, বিলাশপুর, নারিশা ও মুকসুদপুরে পদ্মা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ১৬টি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর শুস্ক মৌসুমে প্রভাবশালী একাধিক বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই বালু আবার ড্রেজার পাইপের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে ট্রাকপ্রতি বালু বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ টাকা করে। স্থানীয়রা আরও জানান, সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর দুই মাস আগে উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এই সিন্ডিকেটের পাঁচটি শ্যালো মেশিন জব্দ করে। আবারও প্রভাবশালীরা সক্রিয় হয়ে পদ্মা নদীতে বড় প্রায় ১৬টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বিভিন্ন স্থানে বালু প্রকাশ্যে উত্তোলন করছে। এর ফলে উপজেলার মৈনটঘাট এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার জমি সম্প্রতি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টিতে দৃষ্টি দিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় দোহারের জনসাধারণের একটাই দাবি ছিল, পদ্মা নদীতে ড্রেজিং বন্ধ করা এবং পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ করা। অবশেষে ঢাকা-১ আসনের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের একান্ত প্রচেষ্টায় দোহারে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর উদ্দেশ্য পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা ও নদীতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করে ভাঙন বন্ধ করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি চরাঞ্চল ও নদী-তীরবর্তী এলাকার কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটানো। কিন্তু এ সকল কর্মকাণ্ডে পুরোটাই ভেস্তে যাচ্ছে দোহারে পদ্মা নদীতে ড্রেজার, কাটার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলনের ফলে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা জানান, দুই মাস আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহূত পাঁচটি কাটার ও শ্যালো মেশিন আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আবারও বসলে অভিযান চালানো হবে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন সমকালকে জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।