রূপগঞ্জে দখল দূষণে মৃতপ্রায় বালু নদী

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

মো. জিয়াউর রাশেদ, রূপগঞ্জ

বালু নদীর পাড় ধরে হাঁটছিলাম। উদ্দেশ্য, এর প্রকৃত অবস্থা দেখা। এমন সময় উৎকট গন্ধ এসে লাগল নাকে। গন্ধ কীসের জানতে চাইলে স্থানীয় আজগর আলী বলেন, এটা নদীর গন্ধ। মানুষ আর শিল্প-কারখানার বর্জ্য মিশে নদীর পানি পচে গেছে। তিনি জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে নদীর পানির এ অবস্থা। দিন দিন অবস্থা আরও খারাপের পথে। আগে অনায়াসে নদীর পানি খাওয়া যেত। এখন খাওয়া তো দূরের কথা, পানিতে হাত লাগলেই চুলকানি হয়।

গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় বালু নদীর অবস্থান। এটি বেলাই বিল ও ঢাকার উত্তর-পূর্ব বিস্তীর্ণ জলাভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ডেমরার কাছে শীতলক্ষ্যা নদীতে পড়েছে। আঁকাবাঁকা নদীটির দৈর্ঘ্য ৪৪ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৭৯ মিটার। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া, রাজধানী ঢাকার অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য ফেলাসহ নানা কারণে বালু নদীটি মৃতপ্রায়।

বর্তমানে বালু নদীর পানি কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। দখল-দূষণের কারণে নদীটির কোনো কোনো জায়গা এতটাই সংকুচিত হয়ে গেছে যে, দেখলে ডোবা মনে হয়। ঢাকা শহরের ওয়াসার ময়লা পানি, অবৈধ দখল, শিল্প-কারখানার বর্জ্য নদীটির দুরবস্থার জন্য দায়ী। বালু নদী থেকে দুটি ছোট নদী নরাই আর দেবধোলাই প্রবেশ করেছে ঢাকায়। ছোট নদী দুটি দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার শিল্প-কারখানার বর্জ্য গিয়ে পড়ছে বালু নদীতে। বছরের পর বছর আবর্জনা মিশে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে।

ঢাকা ওয়াসার একটি সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পয়ঃবর্জ্য, বিভিন্ন শিল্প-কারখানার সাড়ে ৫ হাজার ঘনফুট দূষিত বর্জ্য নদীতে পড়ছে। এ ছাড়া বালু, নরাই ও দেবধোলাই নদীর ওপরে আছে সহস্রাধিক ঝুলন্ত পায়খানা। এসব থেকে আরও প্রায় এক হাজার ঘনফুট পয়ঃবর্জ্য নদীতে মিশছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ২০১৩ সালের জুন থেকে নিয়মিতভাবে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদের পানির পিএইচের পরিমাণ পরীক্ষা করে আসছে। সংস্থাটির মতে, বালু নদীতে বিভিন্ন সময় পিএইচের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ থেকে ২০ গুণ বেড়ে যায়।

রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বালু নদীতে এখন মাছ নেই। মাছ না থাকায় নদীর পাড়ের খিলগাঁওয়ের দাসেরকান্দি গৌঢ়নগরের জেলেপাড়ার অধিকাংশ জেলে চলে গেছেন অন্য পেশায়।

পরিবেশবিদ ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড এ অবস্থা তৈরি করেছে। সম্প্রতি হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বালু নদীসহ দেশের নদীগুলোকে বাঁচাতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে নদীগুলোর অবস্থার উন্নতি হবে।

রূপগঞ্জের ইউএনও মমতাজ বেগম বলেন, ঢাকার পয়ঃবর্জ্য ও শিল্প-কারখানা নদীটির দূষণের জন্য দায়ী। শিগগির দায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।