সাভারে দুই শিশুকে আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার ঊষা গার্ডেন সিটির একটি ফ্ল্যাটে বিদেশি দুই শিশুকে আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিত ওই দুই শিশুর নাম বব ডেসকারগার (১০) ও রাব্বী ডেসকারগার (৮)। তারা দু'জনই ফিলিপাইনের নাগরিক। এ ঘটনায় ফিলিপাইনে থাকা শিশু দুটির মা সাভার থানাকে বিষয়টি অবহিত করলেও পুলিশ এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে শিশু দুটির বাবা বাংলাদেশি নাগরিক জাপান প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন বাবু দাবি করেন, লেখাপড়া করানোর জন্যই তার সন্তানদের তিনি বাংলাদেশে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে রেখেছেন।

রোববার দুপুরে পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার ঊষা গার্ডেন সিটির দ্বিতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, শিশু দুটি একটি কক্ষে রয়েছে। বাসায় এক নারী গৃহকর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। গৃহকর্মী জানান, কয়েকদিন আগে গিয়াস উদ্দিন বাবুর দ্বিতীয় স্ত্রী তামান্নার বাবা মারা যাওয়ায় তিনি রাজবাড়ীতে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন। প্রতিদিন হোটেল থেকে শিশু দুটির জন্য খাবার আনা হয়। এভাবেই কয়েকদিন ধরে চলছে।

ঊষা গার্ডেন সিটির ভবন মালিক জামাল উদ্দিন জানান, ২০১৪ সালে গিয়াস উদ্দিন বাবু ও তার ফিলিপাইনের নাগরিক স্ত্রী রিজা ডেসকারগার বাংলাদেশে আসেন এবং তারা ভবনের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। এরপর তারা দু'জনই জাপান চলে যান। এরপর দু'জনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালে বাবু দেশে এসে তামান্না নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। এ ঘরে তাদের একটি ছেলেসন্তান হয়। ছয়-সাত মাস আগে বাবু তার প্রথম স্ত্রীর দুই শিশুকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে রেখে গত সেপ্টেম্বরে জাপান চলে যান। এরপর থেকে শিশু দুটি সৎমায়ের কাছেই রয়েছে।

শিশু দুটি জানায়, তারা তার মায়ের কাছে ফিলিপাইনে ফিরে যেতে চায়। এখানে তাদের কষ্ট হচ্ছে। খাবার-দাবার ঠিকমতো পেলেও তারা ঘরের বাইরে যেতে পারছে না। ফিলিপাইনের একটি স্কুলে তারা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। তারা এখন স্কুলে যেতে পারছে না। তাই তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। শিশু দুটির বাবা জাপান থেকে টেলিফোনে জানান, ফিলিপাইনের নাগরিক রিজা ডেসকারগার জাপানে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এ সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয় ও পরে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ওই দুই সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রী তার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার এক বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সেই ঘরে আরও একটি সন্তান হয়। এর পর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ কারণেই তিনি তার সন্তানদের বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন।

সাভার মডেল থানায় ওসি এএফএম সায়েদ জানান, এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শিশু দুটির মা ফিলিপাইনের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে আসবেন বলে জানতে পেরেছি। তিনি এলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।