২০ মাস পর ঘাতক চিহ্নিত আদালতে স্বীকারোক্তি

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ মাস আগে ভাড়া বাসায় স্বামী পরিত্যক্ত নাজমা আক্তার ঋতু খুন হন। ওই ঘটনার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল না। হত্যাকাণ্ড এতদিন ছিল ক্লুলেস। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি নিহত নাজমার মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে তার প্রেমিক প্রকৃত খুনি লুৎফর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গত বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আদালতে জবানবন্দি দেয় ঘাতক লুৎফর রহমান। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর বংশালের মালিটোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নাজমার অন্যতম প্রেমিক লুৎফর রহমানকে।

২০১৮ সালের ২০ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকার আবদুর রহিমের ভাড়াটিয়া নাজমা খুন হন। তাকে খুন করে বাসার বাইরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক। হত্যাকাণ্ডের দু'দিন পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশ এসে তালা ভেঙে নাজমার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পায় পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই সেলিম রেজা জানান, নিহত নাজমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের দক্ষিণ পৈরতলার আবুল হাশেম মিয়ার মেয়ে। ঘাতক লুৎফর রহমান একই জেলার বিজয়নগর থানার বীরপাশা এলাকার মৃত জিতু মিয়ার ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, লুৎফর ও নাজমা

উভয়েই বিবাহিত। নাজমার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে, আর লুৎফরের স্ত্রী মৃত।

অদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে লুৎফর জানায়, নাজমা সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় আসা-যাওয়ার এক মাসের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।

২০১৮ সালের ২০ জুন রাতে টিভি দেখা নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে সে নাজমার মাথায় আঘাত করলে তাৎক্ষণিক মারা যায়। এর পর লাশ ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় লুৎফর।