করোনা প্রতিরোধ

মানুষ এসে দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে

নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জ

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০

নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নিজে ও স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে বিত্তবান ও ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের ঘরে তিনি তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই যাচ্ছেন না বা স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠাচ্ছেন না। তবে যে কেউ প্রয়োজনে তার কার্যালয় থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সংগ্রহ করতে পারবেন।

বুধবার সকাল থেকে শহরের কুমুদিনী বাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পরে তিনি ও তার স্বেচ্ছাসেবকরা এ স্যানিটাইজার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন। এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে আহ্বান করেন যেন খাদ্যসামগ্রী সহায়তার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তিনি নিজেও এ কাজ করবেন এবং এতে শরিক হতে সামর্থ্যবানদের আহ্বান জানান। তবে এ ক্ষেত্রে খাদ্যসামগ্রী গ্রহণযোগ্য, কোনোভাবেই নগদ অর্থ তিনি গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

খোরশেদ জানান, সপ্তম দিনের মতো বুধবারও তার কার্যালয় থেকে এ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এ দিন তিনি ও তার ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী পিপিই পরিধান করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিম্নবিত্ত মানুষের ঘরে ঘরে এ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তারা যতক্ষণ বাইরে থাকবেন ততক্ষণ যেন এ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করেন এবং ঘরে সাবান পানি ব্যবহার করেন সেটিও বলে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আমি এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করেছি এবং আমার কার্যালয় থেকে ১৫ হাজার বোতল বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ও আমার কার্যালয় থেকেও বিতরণ করা হবে। মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই আমি জনগণের সেবকের দায়িত্ব পালন করতে চাই।

খোরশেদ প্রতিদিন নিজ উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী দুই থেকে তিন হাজার ৫০ মিলি. বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দের দেওয়া ফর্মুলায়। তিনি এসব তৈরি করে বিনামূল্যে বিতরণ করছেন মানুষের মধ্যে। তার ওয়ার্ডবাসী বিভিন্ন ফার্মেসিতে ঘুরেও ১ সপ্তাহ ধরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় যেখানে হাত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখাটা প্রয়োজন সেখানে তিনি নিজেই উৎপাদন করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করছেন। শুধু ওয়ার্ডবাসী নয়, যে কেউ তার কার্যালয় থেকে এটি সংগ্রহ করতে পারছেন।

করোনা প্রতিরোধে এর আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ দু'সপ্তাহ ধরেই লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ এবং বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন বসিয়ে তাতে ক্ষারযুক্ত সাবানের ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া প্রতিটি মসজিদে স্যাভলনের স্প্রের ব্যবস্থা করেন তিনি, যেটি মসজিদে প্রবেশ ও মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মুসল্লিদের হাতে স্প্রে করা হয়।

এ ছাড়া তিনি তার ওয়ার্ডের বিভিন্ন যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে তাতে স্প্রে করিয়েছেন। জীবাণুনাশক স্প্রে-তে ব্যবহার করা হয়েছে ২০ লিটার পানির সঙ্গে এক চামচ ব্লিচিং পাউডার। এটি জীবাণু নাশ করতে খুবই উপকারী বলে কাউন্সিলর জানান।

তিনি ১০ মার্চ থেকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ শুরু করেছিলেন।বাংলাদেশে ব্যক্তি পর্যায়ে কাউন্সিলর খোরশেদই প্রথম স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য পিপিপি সুট ব্যবস্থা করলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে হেফাজত করলে আমি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই। এ জন্য করোনাভাইরাস সংক্রমের প্রথম থেকেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দিলেন মুড়াপাড়া কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস সাদিকুল ইসলাম সজীব। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মীরকুটিরছেও এলাকার ১০০ পরিবারের মধ্যে এ পণ্যসামগ্রী ও মাস্ক বিতরণ করেন তিনি।

জিএস সাদিকুল ইসলাম সজীব বলেন, গতকাল বুধবার ২৫ মার্চ আমার জন্মদিন ছিল। দেশের এ পরিস্থিতিতে জন্মদিন পালন না করে আমি দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। সরকার সচেতনতা বৃদ্ধিতে মানুষকে ঘর থেকে না বের হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। ঘর থেকে না বের হওয়ার কারণে দুস্থ মানুষ খাবার সংকটে পড়েছে। করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার কারণে বাংলাদেশে সবকিছুই স্থগিত হয়ে গেছে। কর্মজীবী মানুষ তার কর্মস্থলে যেতে পারছে না। তাই আজ আমার জন্মদিন উপলক্ষে কোনো প্রোগ্রাম ও কেক না কেটে এই সংকটময় সময়ে গরিব ও দুস্থদের মধ্যে আমার সাধ্যমতো ত্রাণ বিতরণ করে জন্মদিন পালন করলাম।