চার হাজার একর জমির আখ পানির নিচে

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়েছে গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকল। চিনিকলের আওতাধীন ইক্ষু জোন এলাকাগুলোর বিস্তীর্ণ উঠতি আখক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আগামী মাড়াই মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত আখ না পাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নতুন করে চিনিকলটি লোকসানের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আখচাষিরা।
গত বুধবার সকাল থেকে সারাদিন মহিমাগঞ্জের দেওয়ানতলা সেতু এলাকা থেকে সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া আখক্ষেত পরিদর্শন করে চিনিকল কর্তৃপক্ষের একটি দল। তবে তারা এ সময় বিভিন্ন গ্রামে চাষিদের সঙ্গে উঠোন বৈঠকে আলোচনায় জানান, এবারের বন্যায় অন্য সব ফসল একেবারে বিনষ্ট হলেও শুধু আখ এখনও আশার আলো হয়ে জেগে আছে। কারণ পানির নিচে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেলেও আখক্ষেত পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মাধ্যমে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখা সম্ভব।
রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউসুফ আলী শিকদার জানান, তিনিসহ রংপুর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), মহাব্যবস্থাপকসহ (কৃষি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল নৌকায় প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার পানিতে নিমজ্জিত আখক্ষেত পরিদর্শন করে। এ বছর রোপণকৃত ৫ হাজার ৪৮৫ একর জমির উঠতি আখের মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৮৩১ একর জমির আখ। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ একর জমির আখ সম্পূর্ণরূপে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে বন্যার পানি নেমে গেলে মাজরা পোকার আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় দ্রুত সঠিক পোকা দমন ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করলে অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকে পূর্ণাঙ্গ ফলন পাওয়া সম্ভব।
আখচাষিদের মাঝে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার ও ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এ দলটি মহিমাগঞ্জের বোচাদহ, চর বালুয়া, রাখালবুরুজ, সিপি সিঙ্গা, সোনাইডাঙ্গা, কচুয়া, চন্দনপাঠ, গুজিয়া, তালতলা, বোয়ালিয়া, খানসাপাড়া, কাইয়াগঞ্জ, সাতানাবালুয়াসহ কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যাত্রাবিরতি করে উঠোন বৈঠকে অংশ নেয়।