আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

গাইবান্ধা: ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তায় পানি বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮      

গাইবান্ধা ও সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গো-ঘাট, সাঘাটার ভরতখালী ইউনিয়নের গোবিন্দি, হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, ফুলছড়ির গণকবর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত তিন দিনে এসব এলাকায় আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে আরও বেশকিছু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যারা এখনও ভাঙন কবলিত এলাকায় রয়েছে, তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গো-ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণের কিছু কাজ করা হলেও আরও কিছু এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। গো-ঘাটের ওই অরক্ষিত এলাকাতেই এখন ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম জাকির জানান, গত তিন দিনে তার ইউনিয়নের গো-ঘাট, পূর্ব বাটিকামারী, পারদিয়ারা, খারজানি, রায়দাসবাড়ি ও নুনগোলা এলাকায় শতাধিক ঘরবাড়িসহ অসংখ্য গাছপালা ও আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটা-মাটি হারা এসব পরিবার এখন নিঃস্ব। ভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর পক্ষে বাবলু সাহা নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা বারবার অনুরোধ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। তাই লোকজনকে ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হচ্ছে। তাদের এখন দুর্বিষহ জীবন কাটছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, কামারজানির গো-ঘাট এলাকায় নদীভাঙন রোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ৪৮০ মিটার অংশে তীর সংরক্ষণ কাজের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এজন্য তিন কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

এদিকে সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জের ভাঙন কবলিত এলাকায় দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি গত তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেসব এলাকাতেও ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এসব এলাকার গৃহহারা পরিবারগুলো এখন বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে জানিয়েছেন, হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী।