ধরলা ও তিস্তায় পানি বৃদ্ধিতে আতঙ্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মায় বিলীন হয়েছে ৫০ বাড়ি। অন্যদিকে লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্ট ও কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। এদিকে কুড়িগ্রামে ধরলায় পানি বৃদ্ধি রোধে ব্যবস্থার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) : গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর বয়ারমারী আমিনপাড়া গ্রামের মসজিদসহ ৩৫টি বাড়ি এবং ১৫টি বাড়ির আংশিক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাসুদ রানা উজ্জ্বল জানান, গত টানা ১৫ দিনে পদ্মার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে মসজিদসহ ৩৫টি বাড়ি পুরোটাই পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ১৫টিরও অধিক বাড়ি বিলীনের পথে রয়েছে। ফলে ৫০টি পরিবারের ৩০০ জন লোক খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

লালমনিরহাট :লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি মঙ্গলবার সকালে বিপদসীমা ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলসহ তিস্তা তীরবর্তী হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার কিছু গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কুড়িগ্রাম :কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ফলে সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে পাটেশ্বরী বাজার ও ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ। মাত্র একদিনে এসব গ্রামে ভিটামাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়েছে ১৬টি পরিবার।

এই পরিস্থিতিতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে নানকার এলাকায় মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধন করেছেন ভাঙন কবলিত পাঁচ গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ। ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান জানান, নানকার, সাতভিটা, নন্দদুলালের ভিটা, মডেল কলেজ পাড়া ও চর বড়াইবাড়ী- এই পাঁচটি গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে ভিটাবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা বিলীন হচ্ছে। মঙ্গলবার ভাঙনে চর বড়াইবাড়ী গ্রামে ছয়টি, সাতভিটা গ্রামে ৫টি এবং নানকার গ্রামে ৫টি মোট ১৬টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে এই ৫ গ্রামে ১০২টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।