ঘুষ না দেওয়ায় মিটার পাননি ৬৫ গ্রাহক

নওগাঁ

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দায় ঘুষের টাকা না দেওয়ায় মিটার সংযোগ পাচ্ছেন না উপজেলার পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের ৬৫ জন গ্রাহক। মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র প্রকৌশলী আবদুস সালামের দাবিকৃত ২০ হাজার টাকা না দেওয়ায় গত ৫ মাস ধরে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার দুপুরে মান্দা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রাহক এসব অভিযোগ করেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, অন্তত ৫ মাস আগে ওই গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি, তারসহ তাদের বাড়ি বাড়ি ড্রপ তার টানা হয়েছে। কিন্তু ৫ কেভির ৪টি ট্রান্সফর্মার না থাকার অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। ঈদের আগে সংযোগের জন্য সমিতির কার্যালয়ে একাধিকবার ধরনা দিয়েও তারা সংযোগ পাননি। পরবর্তীতে মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র প্রকৌশলী আবদুস সালাম ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫ কেভির ৪টি ট্রান্সফর্মার সরবরাহ করেন। গ্রাহকরা জানান, মঙ্গলবার সকালে ট্রান্সফর্মার ও গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি মিটার সংযোগ দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় থেকে লাইনম্যান পাঠানো হয়। লাইনম্যানরা ওই গ্রামে গিয়ে ট্রান্সফর্মার ও মিটার লাগানোর আগেই গ্রাহকদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই গ্রামের গ্রাহক জসিম উদ্দিন দাবি করেন, আবদুস সালামের দাবিকৃত ২০ হাজার টাকা না দেওয়ায় লাইনম্যানদের কাজ করতে না দিয়ে তাদের অফিসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের আফজাল হোসেন, আয়নাল হক, সাইদুর রহমান, আমজাদ হোসেন, আজিজুল ইসলাম, আবুল কালাম, জাহাঙ্গীর আলম, টুটুল হোসেন, মোজাফফর হোসেনসহ অর্ধশতাধিক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র প্রকৌশলী আবদুস সালাম মিটার সংযোগ দেওয়ার নামে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মিলন কুমার কুণ্ডু জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নওগাঁর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম এনামুল হক প্রামাণিক জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য মান্দা জোনাল অফিসের ডিজিএম মিলন কুমার কুণ্ডুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই জুনিয়র প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।