নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২শ' শিক্ষার্থীকে টিসি

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ২শ' শিক্ষার্থীকে টিসি (স্থানান্তর সনদ) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের খোদ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলছেন, বিদ্যালয় নিবন্ধন ও পরিদর্শন শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এটি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল, যদি কোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী তার বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় তাহলে সে এসএসসির ফরম পূরণ করতে পারবে না। আর সে কারণেই ১ সেপ্টেম্বরের পরে কোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে টিসি দিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রতি। কিন্তু নির্ধারিত সময়েরও অনেক পরে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীকে টিসি দিয়ে অন্য বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করানোর জন্য কাগজপত্র দেয় দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধন শাখা। আর এসবের বিনিময়ে ওইসব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধন শাখা থেকে জানা যায়, নির্দেশনা ভঙ্গ করে এভাবে প্রায় ২শ'জনকে টিসি দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের নির্দেশে এসব টিসি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই শাখার দায়িত্বরতরা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় নিবন্ধন শাখার সেকশন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ২০০ জনকে টিসি দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল ১ সেপ্টেম্বরের পরে কোনো টিসি দেওয়া যাবে না। কিন্তু মানবিক কারণে এবং বোর্ডের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত টিসি দেওয়া হয়েছে। এটি নির্দেশনা ভঙ্গ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা বোর্ড এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।

শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক তোফাজ্জুর রহমান জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না। সে জন্য টিসি দিয়ে অন্য বিদ্যালয় থেকে এসব শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করার জন্য আমাকে কাগজপত্র দেওয়া হয়। সেগুলো যাচাই করে যেগুলো ফরম পূরণে অযোগ্য সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক জানান, মানবিক কারণ দেখিয়ে টিসি দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের পরে টিসি দেওয়া শিক্ষা বোর্ডের এ ধরনের কোনো নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।