চাটমোহরে ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার চাটমোহরে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ফসলি জমিতে যথেচ্ছভাবে চলছে পুকুর খনন। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খনন যন্ত্র ভেকুর মাধ্যমে পুকুর খনন চলছে। বাড়ছে পুকুরের আকার-আয়তন। কমে আসছে ফসলি জমি। উপজেলাজুড়ে প্রকাশ্যে পুকুর খনন চললেও সংশ্নিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।

সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভেকু দিয়ে ফসলি জমিতে পুকুর খননের কাজ চলছে। আর খননের পর বেশিরভাগ মাটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলি ও ট্রাক্টরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইট ভাটায়। রাজনৈতিক নেতা, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকতা-কর্মচারীদের যোগসাজশে অবাধে চলছে এ কাজ। উপজেলার ছাইকোলা, হাণ্ডিয়াল, গুনাইগাছা, নিমাইচড়া, পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নে পুকুর খননের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জনের জন্য পুকুর খনন করছেন কিছুসংখ্যক জমির মালিক। তারা প্রতি ট্রলি মাটি বিক্রি করছেন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। পরে বার্ষিক মোটা অঙ্কের টাকায় মৎস্যচাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন সেই পুকুর। অথচ গণহারে পুকুর খননে ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি বর্ষার সময় জমিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনী বলেন, পুকুর খননের বিষয়টি উদ্বেগজনক। এতে মাছের চাষ বাড়লেও আশঙ্কাজনকভাবে ধানি জমির পরিমাণ কমে আসছে। এতে বছর বছর ধান বা সবজি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। এ ব্যাপারে সবার সচেতন হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, অনুমতি ছাড়া যে কোনো ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে এবং ফসলি জমিতে পুকুর খননকারীদের তালিকা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।