সেতুর পাটাতনে ট্রাক আটকে যান চলাচল বন্ধ

ভূরুঙ্গামারী

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সেতুর পাটাতনে ট্রাক আটকে যান চলাচল বন্ধ

ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ সোনাহাট সেতু। ইনসেটে আটকে পড়া ট্রাক- সমকাল

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত সোনাহাট রেলওয়ে সেতুর পশ্চিম দিকে বেইলি ব্রিজ অংশের পাটাতন ভেঙে দেবে যাওয়ায় সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথর-কয়লা পরিবহনকারী যানবাহনের চলাচল ১৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে সিমেন্টবাহী একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাক সরিয়ে পাটাতন ঠিক করার পর বিকেল ৪টা থেকে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যে কোনো মুহূর্তে আরও মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে নর্থ বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পুরাতন পাটেশ্বরী এলাকায় দুধকুমার নদীর ওপর একেকটি ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৯টি ট্রাস দিয়ে ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এরপর লালমনিরহাট রেলওয়ে জংশন থেকে মোগলহাট, গীতালদহ, জয়মনিরহাট, পুরাতন পাটেশ্বরী, সোনাহাট এবং গোলকগঞ্জ হয়ে আসামের ধুবড়ি পর্যন্ত রেলওয়ে সংযোগ স্থাপন করা হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে দেশ বিভাগের সময় গীতালদহ, সোনাহাট ও গোলকগঞ্জ স্টেশন ভারতের অংশে পড়ে। ফলে ১৯৫০ সালের দিকে এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ১০ কিলোমিটার রেলপথ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

এদিকে নিরাপত্তার কারণে ১৯৭১ সালে ২৫ মে সেতুটির ২টি ট্রাস ভেঙে দেয় মুক্তিবাহিনী। এরপর পাকিস্তানি বাহিনীর ভেঙে দেওয়া তিস্তা রেলওয়ে সেতু দ্রুত মেরামতের জন্য সোনাহাট সেতু থেকে ২টি ট্রাস খুলে নিয়ে গিয়ে লাগানো হয়। ১৯৮৪ সালের দিকে ভেঙে ফেলা এবং খুলে নেওয়া ৪টি অংশে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি ব্রেইলি লাগিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

পরবর্তীতে সেতুর পূর্বপাড়ে ২০১৪ সালের দিকে সোনাহাট স্থলবন্দর চালু হলে এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করায় সেতুটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। এ জন্য ১০ টনের বেশি মালপত্র নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু কেউ এ নিষেধাজ্ঞা মানছেন না।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল আখতার জানান, সোনাহাট সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কেননা ব্রেইলি লাগানো ব্রিজ দীর্ঘসময় ধরে অতিরিক্ত মালপত্র বোঝাই যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। এ জন্য ১০ টনের বেশি মালপত্র নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আবারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবে সোনাহাট রেলওয়ে সেতুর ১২০ মিটার দক্ষিণে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুত সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।