সলেমানের সোলারে চলছে সেচযন্ত্র

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

শামসুজ্জুহা, ঠাকুরগাঁও

সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে কৃষির সেচ কাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী গ্রামের কৃষক সলেমান আলী। অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যের ভ্রাম্যমাণ সৌরবিদ্যুৎ নির্ভর সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন তিনি। বোরো মৌসুমে ডিজেল বা বিদ্যুৎ দিয়ে সেচের চেয়ে সোলার দিয়ে একরপ্রতি চার-পাঁচ হাজার টাকা কমে সেচ কাজ সম্পন্ন করা যায়। তার এই সেচযন্ত্র ব্যবহূত হচ্ছে হ্যাচারিতেও।

সলেমান আগে সোলার আইপিএস তৈরি করতেন। দেশে সৌর সেচযন্ত্র চালু হওয়ার পর তিনি এই প্রযুক্তি আরও সহজলভ্য করতে কাজ শুরু করেন। সৌর প্যানেল, কন্ট্রোলারসহ নানা যন্ত্রপাতি লাগিয়ে দ্রুতগতিতে পানি তুলতে সলেমান পাম্পে যোগ করেন গিয়ারবক্স। ১০টি সৌরকোষ একত্রে সংযুক্ত করে সলেমান তৈরি করেছেন সৌর প্যানেল। প্রতিটি সৌরকোষের ধারণ ক্ষমতা ২৫০ ওয়াট। ওই সৌর প্যানেলের ওপর সূর্যের আলো পড়তেই ভোল্টেজ তৈরি হয় এবং সংযুক্ত তারের মাধ্যমে এটি থেকে পাওয়া যায় বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ দিয়ে চলে ৩ হর্স পাওয়ারের একটি পাম্প। এই সেচযন্ত্র দিয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জমিতে সেচ দেওয়া যায়। সূর্যের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেচযন্ত্রের গতিও বাড়তে থাকে। ২ হাজার ৫০০ ওয়াটের সৌর প্যানেল দিয়ে মিনিটে ৭০০ লিটার পানি ওঠে।

সলেমানের হিসাবে, এক ওয়াট সৌরকোষের দাম পড়ে ৪০ টাকা। সে হিসাবে ২ হাজার ৫০০ ওয়াটের দাম পড়ে এক লাখ টাকা। পানির পাম্প ও সোলারের অবকাঠামো তৈরিতে আরও ব্যয় ৩০ হাজার টাকা। একটি সৌর সেচযন্ত্র তৈরির খরচ পড়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি বিক্রি করছেন এক লাখ ৬০ হাজার টাকায়। কিন্তু বাজার থেকে সোলার প্যানেলসহ সেচযন্ত্র কিনতে গেলে কোম্পানি ভেদে কৃষককে খরচ করতে হবে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিদ্যুৎচালিত নলকূপ দিয়ে জমিতে সেচ দিতে কার্ডে অগ্রিম টাকা রিচার্জ করতে হয়। তা ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে সেচ দিতে না পারলে বোরো ধানের ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। ডিজেলচালিত শ্যালো দিয়ে সেচ দেওয়াও ঝামেলার। সোলার সেচযন্ত্র এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এটি থাকলে পানি তুলতে এক টাকাও খরচ হয় না। সলেমান আরও জানান, সরকার যদি আমার এই সৌর সেচযন্ত্র কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে, তাহলে বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ওপর কৃষককে নির্ভর করতে হবে না। এতে পরিবেশও ঠিক থাকবে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আফতাব হোসেন জানান, সলেমান আলীর সৌর সেচযন্ত্রটি ব্যবহার করলে কৃষকের ডিজেল বা বিদ্যুৎ লাগবে না। এতে ফসল উৎপাদনে খরচ কম হবে। এই সৌর সেচযন্ত্র উদ্ভাবনের বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।