সিরাজগঞ্জ

ভূমি অধিগ্রহণের আশ্বাসে ফের বালু ভরাট

পাউবোর নদীতীর রক্ষা প্রকল্প

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

আমিনুল ইসলাম খান রানা, সিরাজগঞ্জ

ভূমি অধিগ্রহণের আশ্বাসে ফের বালু ভরাট

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরমালশাপাড়ার ৩ ও ৪নং ক্রসবার বাঁধ এলাকা -সমকাল

ভূমি অধিগ্রহণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে যমুনার পশ্চিম তীরে ফের শুরু হচ্ছে পাউবোর বালু ভরাট কাজ। পানিসম্পদ সচিবের নির্দেশে বন্ধ হওয়া ওই বালু ভরাট কাজ আবারও শুরু করছে পাউবোর ডেলিগেট প্রকিউরমেন্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বলগেট দ্বারা যমুনার বালু দিয়ে আজ শুক্রবার সদর উপজেলার চর মালশাপাড়ায় ৩ ও ৪নং ক্রসবার বাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে ওই কাজ শুরু করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জ পওর শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পাউবো ও বেজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবারও বালু ভরাট কাজ শুরু করা হচ্ছে। ৫১০ কোটি টাকা ব্যয়ের চলমান এ কাজটি গত ৮ মার্চ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বন্ধ ঘোষণা করেন পানিসম্পদ সচিব কবির-বিন-আনোয়ার।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, যমুনার পশ্চিম পাড়ে পুনরুদ্ধার করা ভূমির উন্নয়ন ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও ভূমি মালিকরা যাতে তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন, সে অনুযায়ী অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

পাওবোর উদ্যোগে ভূমি অধিগ্রহণ না করেই দু'মাস আগে প্রকল্প এলাকায় বালু ভরাট কাজ শুরু হয়। এতে ভূমি মালিকদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। যে কারণে তারা পানিসম্পদ সচিবের কাছে বালু ভরাট কাজ বন্ধের দাবি জানান। মূলত তাদের দাবির পরিপ্রক্ষিতে এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা হয়।

ভূমি মালিকরা বলছেন, সদর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী পুঠিয়াবাড়ি, রৌহাবাড়ি, বিয়ারা, বনবাড়িয়া, মোরগ্রাম, বেলটিয়া, বড়পিয়ারী ও ছোট পিয়ারীসহ ৮টি মৌজায় পাউবোর বালু ভরাট প্রকল্পের ১ হাজার ৮৪ একর জমির মধ্যে ৮২১ একরই ব্যক্তিমালিকানাধীন। বাকি ২৫৪ দশমিক ১৪ একর সরকারি খাস এবং ৮ দশমিক ৩৯ একর জমি পাউবো ও রেল বিভাগের। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির খাজনাও নিয়মিত পরিশোধ করছেন মালিকরা। কিন্তু সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথভাবে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে তড়িঘড়ি এ ধরনের রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু করায় হতাশ হয়ে পড়েন যমুনা পাড়ের অসহায় জমির মালিকরা। ভূমি মালিকরা আরও বলছেন, প্রকল্পের দক্ষিণে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠায় পাউবোর ওইসব জমির মূল্য আগামীতে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভরাটের আগেই ভূমি অধিগ্রহণ না হলে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে ভূমি মালিকরা সঠিক প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অন্যদিকে, ভাঙনপ্রবণ এ অঞ্চলে বালু ভরাট প্রকল্পের কারণে জমির শ্রেণির পরিবর্তন হচ্ছে। এ ছাড়া ভরাট কাজে যমুনার বালু উত্তোলনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার শর্তানুযায়ী বলগেট ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা মানছে না। বাঁধ বা নদীতীরে স্থাপিত ভৌত অবকাঠামো রক্ষার সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধের পাশে বা আড়াআড়িভাবে তীর থেকে আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ রয়েছে। পাউবো ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি জেনেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইফতেখার উদ্দীন শামীম বলেন, প্রকল্প অঞ্চলে ভূমি অধিগ্রহণ হয়নি বা প্রত্যাশী সংস্থার চাহিদা মতো কোনো অনুমোদনও নেই। প্রকল্প অঞ্চলের সিংহভাগ ভূমিই ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং তারা খাজনাও পরিশোধ করছেন। তিনি আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে গত ৩ মার্চ পানিসম্পদ ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ পাউবো ও বিসিক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।