সেতুর অভাবে ২৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

উল্লাপাড়ার বাঙ্গালা ইউনিয়নের চন্দিকাদহ খেয়াঘাটে শিমলা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা সদর থেকে তাড়াশ উপজেলা সদরের আঞ্চলিক সড়কে এই খাল পারাপারে স্থানীয়রা বিশেষ করে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়ে। শুকনো মৌসুমে খালে পানি কম থাকলে বাঙ্গালা ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় স্থানীয় গ্রামবাসী এখানে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করেন। বর্ষা মৌসুমে পারাপারের জন্য এই ঘাটে একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। খেয়া নৌকাটি নারী-পুরুষ সবাই চালান। নির্দিষ্ট একজন নৌকার মাঝি থাকলেও অধিকাংশ সময় তিনি খেয়াঘাটে অনুপস্থিত থাকেন। এ কারণে চলাচলকারী লোকজনকেই নৌকাটি বয়ে নিতে হয়। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চন্দিকাদহ খেয়াঘাটে পারপার হয়ে থাকেন এ অঞ্চলের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের মাঝে শিমলা খাল থাকায় এই ঘাট হয়ে কোনো যানবাহন সরাসরি চলাচল করতে পারে না। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারপার হতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হয়। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শুকনো মৌসুমে শিমলা খাল পার করে উল্লাপাড়া উপজেলা সদরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এলাকার মালিপাড়া, ধরইল, রাহুলিয়া, বাঙ্গালা, গয়হাট্টা ও মোড়দহ গ্রামের সনাতন ধর্মের লোকজনকে তাদের স্বজনদের মৃতদেহ সৎকার করতে শিমলা খাল পেরিয়ে শ্মশানে নিতে হয়। এতেও বিপত্তির মুখে পড়েন লোকজন।

শিমলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ওয়াজেদ আলী জানান, শিমলা খালের দু'পাশে শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিমলা মাদ্রাসা ও গাঁড়াবাড়ি মাদ্রাসার সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন চন্দিকাদহ খেয়াঘাট পার হয়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। খেয়াঘাটের দু'পাশে কোনো যাত্রীছাউনি নেই। বৃষ্টির দিনে এসব শিক্ষার্থী ও পথচারীর দুর্ভোগ তখন চরমে ওঠে। ওয়াজেদ আলী আরও জানান, এলাকার আলী গ্রাম, রহিমপুর, বিনায়েকপুর, শিমলা, মোড়দহ, গাঁড়াবাড়ি, মালিপাড়া, ধরইল, রাহুলিয়াসহ অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই খেয়াঘাট পেরিয়ে উপজেলা সদরসহ সিরাজগঞ্জ জেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন। এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এ দাবি আমলে নেয়নি কেউই।

এ ব্যাপারে বাঙ্গালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল রানা জানান, চন্দিকাদহ খেয়াঘাটে জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি ডিও লেটার নিয়ে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সড়ক ও সেতু নির্মাণের আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির উল্লাপাড়া অফিস প্রধান উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, বাঙ্গালা ইউনিয়ন পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিমলা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব তার দপ্তর থেকে এরই মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি প্রায় দেড়শ' ফুট লম্বা হওয়ার কারণে এখানে অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে বেশি। ফলে এটি একনেকের বৈঠকে অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এই সড়ক ও সেতুর জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।