ঝুঁকিপূর্ণ লাইন অপসারণ না করেই চলছে সংস্কার

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯      

আমিনুল ইসলাম খান রানা, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের বাঐতারা গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কার প্রকল্পের কাজ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থান বাদ রেখে ওই গ্রামের কাটাখালের পাশে যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে লাইন সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। নকশা ছাড়াই সিমেন্টের পরিবর্তে কাঠের খুঁটি পুঁতে রাখা হচ্ছে। এদিকে গ্রামের ওয়াপদা বাঁধ সংলগ্ন সফের মোড়ে খালের পশ্চিমে শহিদ আলীর বাড়ি থেকে দানেজ মণ্ডলের টিনের বাড়ির ওপর দিয়ে সঞ্চালিত ১১ হাজার ভোল্টের ২০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ লাইন অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি পবিস।

বাঐতারা গ্রামের পাশে কাঁদাই, ছাতিয়ানতলী, বেলুটিয়া, মোড়গ্রাম, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের বনবাড়িয়া, শাবানা মোড়, চাকলী, কান্দাপাড়া, চর-কান্দাপাড়া, চরকল্যাণী, কালিয়া, সদরের বহুলী, শিয়ালকোল, খোকশাবাড়ি ও ছোনগাছা ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে পবিস ও নেসকোর ১০ হাজার অবৈধ দ্বৈত লাইনের গ্রাহক সংযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় পিডিবির অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বাঁশ ও গাছের ডালে ননস্ট্যান্ডার্ড বা ফাটা তারে। অবৈধ দ্বৈত সংযোগের কারণে বাঐতারার পার্শ্ববর্তী কাঁদাই গ্রামে বর্ষায় টংঘর সরাতে গিয়ে নেসকোর ঝুঁকিপূর্ণ নন-স্ট্যান্ডার্ড তারে জড়িয়ে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই ৮ গ্রামবাসী অকালে প্রাণ হারান। ওই ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কারে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেয় পবিস। জেলার বিভিন্ন স্থানে ওই প্রকল্পের অংশ হিসেবে বর্তমানে বাঐতারা গ্রামে সংস্কারের কাজ চলছে। ২১ জুন বিকেলে বাঐতারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পবিসের শ্রমিকরা সেখানে লাইন প্রতিস্থাপন করে সংস্কারের কাজ করছেন। প্রকল্পের ব্যয় বা বাস্তবায়নের স্বচ্ছতার জন্য পবিসের পক্ষ থেকে সেখানে কোনো সিটিজেন চার্টার টানানো হয়নি। পাউবোর খালের পাশে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে টানানো হচ্ছে সিমেন্টের পাশাপাশি কাঠের খুঁটি। সহজে পরিবহনযোগ্যে স্থানেও সিমেন্টের পরিবর্তে কাঠের খুঁটি পুঁতে রাখায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গুটিকয়েক শ্রমিক ছাড়া পবিসের কোনো দায়িত্বশীল লোকজনও সাইটে ছিলেন না। ঘটনাস্থলে গেলে তাঁত মালিক দীন মোহাম্মদ, শহিদ আলী, আসাদুল, গোলাম আলীসহ শতাধিক গ্রামবাসী আক্ষেপ করে জানান, বারবার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও খালের পাড় ঘেঁষে পবিসের খুঁটি পোঁতা হচ্ছে। দানেজ মণ্ডলের বাড়ি থেকে সফের মোড় পর্যন্ত ২০টি বাড়ির ওপর ১১ হাজার ভোল্টের লাইন চলে গেছে। ৫-৬টি খুঁটিসহ ওই লাইন অপসারণে অনুরোধ করার পরও তা করা হচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) মোরশেদুর রহমান বলেন, 'সংস্কার প্রকল্পের পরিকল্পনা করা স্থানেই খুঁটি পোঁতার চেষ্টা করা হয়। গ্রামবাসীর বাধার কারণে পরে খালের পাড় ঘেঁসে খুঁটি পুঁততে বাধ্য হয়েছি। তবে, ঠিকমতো অ্যানালাইজার দিয়ে দু'পাশে টানা দিলে অসুবিধা হবে না।

মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সৈয়দ কামরুল হাসান বলেন, বাঐতারাসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইউআরআইডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে পবিসের লাইন সংস্কার ও ঝুঁকিমুক্তকরণ কাজ চলছে। ওই প্রকল্পের দায়িত্বশীল নির্বাহী প্রকৌশলীই এসব তদারকি করছেন। তিনি বলেন, প্রকল্প দুর্গম অঞ্চলে হলে সেখানে কাঠের পোল ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে ইউআরআইডিএস প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকের বাধার কারণে অনেক সময় নকশা অনুযায়ী সঠিক স্থানে খুঁটি পোঁতা সম্ভব হয় না। তিনি আরও জানান, জেলার বেশ ক'টি উপজেলার ৩০০ কি.মি. লাইন ঝুঁকিমুক্ত করতে টেন্ডার করা হয়েছে। সেগুলোর প্রাক্কলিত ব্যয় কত, তা ডিজাইন বা ফাইল না দেখে বলা সম্ভব নয়।