সড়ক সংস্কারের দাবিতে পরিবহন ধর্মঘট

জয়পুরহাট

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা জয়পুরহাট-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কসহ জেলার সব সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা জেলার সব সড়কে যানবাহন বন্ধ রেখে পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন মোটর মালিক ও শ্রমিকরা। এ সময় মালিক ও শ্রমিকদের যানবাহন বন্ধ রেখে জেলার সব সড়কের মোড়ে মোড়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। সকাল থেকে জেলার কোনো সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। জেলায় প্রবেশ করতে বিপরীত দিক থেকে আশা বেশ কয়েকটি ট্রাক চোখে পড়লেও সেগুলো সড়কের ওপরই রাখা হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। হঠাৎ করে যানবাহন বন্ধ হওয়ায় পথে পথে বিড়ম্বনাসহ বেশি ভাড়ায় বিকল্প বাহনে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

মোটর মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, দেড় বছর ধরে ঠিকাদাররা ভালো সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রেখে গেছে। কাজের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে দুই মাস আগে। এরপরও এই সড়কসহ জেলার সবক'টি সড়ক নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানান, জয়পুরহাট থেকে বগুড়ার মোকামতলা ও দুপচাঁচিয়া, দিনাজপুর থেকে হিলি স্থলবন্দরসহ পার্শ্ববর্তী চারটি জেলার হাজার হাজার দূরপাল্লাসহ ভারী যানবাহন চলাচল করে এই সড়কগুলোর ওপর দিয়ে। ভালো সড়কগুলোর পিচ-খোয়া তুলে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত করে ফেলে রেখে কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদাররা। দেড় বছর ধরে এ অবস্থা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ছাড়াও আইনি বেড়াজালে পড়ছেন পরিহন মালিক ও শ্রমিকরা। এ ছাড়া অকেজো সড়কগুলোর কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় যাত্রীরা তাদের গালাগাল করে। আবার জ্বালানি খরচও বেড়ে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। কারণে-অকারণে আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। সড়কগুলো সংস্কার ও মেরামতের দাবিতে তারা এর আগেও মানববন্ধন, মিছিল-মিটিং ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়েই তারা বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা জয়পুরহাট থেকে দূরপাল্লাসহ সব আঞ্চলিক বাস-ট্রাক, অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখে পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশনের মহাব্যবস্থাপক আকবর আলী বলেন, বিশেষ কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তাছাড়া বাড়তি সময়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এ সড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হবে।

জয়পুরহাট জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, সড়কগুলো সংস্কারের দাবিতে আগে মানববন্ধন, মিছিল-মিটিং করেও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়েই সব সড়কে পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপরও সড়কগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা করা না হলে ঈদের আগেই উত্তরাঞ্চলে একযোগে পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে।