চিকিৎসক না থাকায় সেবাবঞ্চিত মানুষ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

উজ্জল চক্রবর্ত্তী, গাইবান্ধা

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক নেই গাইবান্ধা সদর উপজেলার বালুয়া বাজার সংলগ্ন রামচন্দ্রপুর পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে। ফলে এলাকার দরিদ্র অসহায় মানুষ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘ ১২-১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে গাইবান্ধা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় তাদের। এদিকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিশাল অবকাঠামো ও আবাসিক ভবনগুলোর এখন বেহাল দশা।

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পার্বতীপুর মৌজায় ৬ একর জমির ওপর পল্লীর অসহায় মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তান আমলে একটি প্রকল্পের আওতায় ১০ শয্যার এই হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। সে সময় ওই হাসপাতালে দু'জন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর থেকে হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি কমতে থাকে। ঢিমেতালে চলতে থাকে এর কার্যক্রম। ২০০৯-১০ অর্থবছর পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী ভর্তি কার্যক্রম চালু থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে রোগী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালে পড়ে থাকে শূন্য শয্যা।

এখন শুধু বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অথচ পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একাংশসহ সদর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে দু'জন মেডিকেল অফিসারসহ পদ রয়েছে ১৯টি; কিন্তু দুই মেডিকেল অফিসারের পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বর্তমানে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও একজন ফার্মাসিস্ট এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহির্বিভাগে আসা রোগীদের চিকিৎসা প্রদান ও ওষুধ দিচ্ছেন। তবে ওই দুই কর্মকর্তাও নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপস্থিত থাকেন না। তাদের অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ডবয় ও অফিস সহায়ক চিকিৎসা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাকি ১৭টি পদের মধ্যে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে ১২ জনকে। মাত্র ৫ জন নিয়মিতভাবে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন।

এদিকে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে হাসপাতাল ভবন। হাসপাতালের মাঠে চরছে গরু-ছাগল। আশপাশের লোকজন মাঠে ধান, খড় এবং ঘুটে শুকায়। হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারসহ অন্যান্য অবকাঠামোগুলোরও জরাজীর্ণ দশা। প্রায় জনশূন্য থাকায় রাতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। চলে অসামাজিক কার্যকলাপ।

ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বার বার জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। গ্রামাঞ্চলের স্বল্প আয়ের লোকজনের কথা বিবেচনা করে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সচল রাখা জরুরি।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, রামচন্দ্রপুর পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।