কবিরাজের 'গুড় পড়া' খেয়ে ইমামের মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

পাবনা অফিস

পাবনার সুজানগরে বাড়ির মালিকের হারানো টাকা ফেরত পেতে কবিরাজি গুড় পড়া খেয়ে ভাড়াটিয়া এক ইমামের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে ইমামের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাড়ির মালিক মামুন। মৃত ইমাম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক ওই উপজেলার চরগোবিন্দপুর গ্রামের ছকির উদ্দিনের ছেলে। তিনি সুজানগর পৌর এলাকার ভবানীপুরের আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করতেন। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুজানগর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

৪-৫দিন আগে বাড়ির মালিক মামুনের তিন লক্ষাধিক টাকা খোয়া যায়। এরপর তারা বিভিন্ন লোকজনকে সন্দেহ করার পাশাপাশি বাড়ির ভাড়াটিয়া ইমামকেও সন্দেহের তালিকায় রাখেন। টাকা ফিরে পেতে শুক্রবার বিকেলে বাড়ির মালিক মামুন এক কবিরাজকে ডেকে এনে ইমামসহ ১৩ জনকে গুড় পড়া খাওয়ায়। এরপর রাতের দিকে ইমাম আব্দুর রাজ্জাকের ডায়রিয়া শুরু হলে পরিবারের লোকজন সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে শনিবার সকালে তিনি মারা যান।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল আলম জানান, ইমামের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বোঝা যাবে।

এ বিষয়ে মৃত ইমামের মামা আমিরুল ইসলাম বলেন, মামুন টাকা না পেয়ে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে কবিরাজ এনে ১৩ জনকে গুড় পড়া খাওয়ানো হয়। রাতে আমার ভাগ্নে অসুস্থ হলে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি।

সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. সেলিম মোর্শেদ বলেন, পাতলা পায়খানা ও বমি হওয়ায় রোগীকে আমরা চিকিৎসা দেই। মাঝরাতে রোগীর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে তিনি মারা যান। ইমাম সাহেব মানসিক চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমন গুড় পড়া অনেকেই খেয়েছেন। তবে তিনি ওই কবিরাজের নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর কিছুই দিতে রাজি হননি এবং এ বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ না করার জন্য অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করেন।