ঋণের চাপে দিশেহারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯      

এনামুল হক গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সরকারের নির্দেশনা না মেনে বন্যাদুর্গত এলাকায় কিস্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন এনজিওর বিরুদ্ধে। মানুষ যখন বন্যার পানিতে ভাসছে, অসহায় এসব মানুষের পাশে সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এনজিও কর্মীরা ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন গ্রহীতাদের। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বন্যার্ত এলাকার মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্মে না ফেরা পর্যন্ত কোনো এনজিও তাদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায় করতে পারবে না। এসব এনজিও সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় তাদের কিস্তি আদায়ে থেমে নেই। এনজিও কর্মীরা ঋণ গ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। ঋণ গ্রহীতাদের কাছে টাকা না পেলে তাদের সঞ্চয়কৃত টাকা থেকে কিস্তির টাকা পরিশোধ করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা। আশা, ব্যুরো বাংলাদেশ মহিমাগঞ্জ শাখা থেকে প্রতিদিন ঋণ গ্রহীতার কেন্দ্রে অথবা তাদের বাড়িতে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন এনজিওর মাঠ কর্মীরা। বন্যায় অসহায় এসব মানুষের পাশে এনজিওরা সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে বরং তাদের চুলায় যখন আগুন জ্বলছে না, তখন তারা চাপ দিচ্ছে ঋণের টাকার কিস্তির জন্য।

কিস্তির টাকা না থাকায় আশা এনজিওর কর্মীর সঙ্গে আশার কোকিল দলের সদস্য মোছা. মল্লিকা বেগম ও মেরিনা বেগমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। মল্লিকা ও মেরিনা বেগম জানান, বন্যায় তাদের বসতভিটায় পানি উঠেছে। তারা রাস্তার ধারে পরিবার পরিজন নিয়ে অমানবিক জীবন-যাপন করছেন। দু'বেলার এক বেলাও খাদ্য জুটছে না। এরই মধ্যে কিস্তির টাকার জন্য এনজিও কর্মীরা চাপ দিচ্ছেন। বন্যার কারণে এলাকায় কোনো কাজ না থাকায় ছেলেমেয়ে নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে থেকেও কিস্তির টাকা দিতে হচ্ছে তাদের। এ বিষয়ে আশা এনজিওর মহিমাগঞ্জ শাখার ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার কোনো সদস্যের কাছে ঋণের টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়নি, কেউ যদি স্বইচ্ছায় কিস্তি দেয়, সে বিষয়টা আলাদা। আমাদের মাঠ কর্মীরা সবসময় বন্যাদুর্গত এলাকার ঋণ গ্রহীতাদের খোঁজ-খবর রাখছে।

এদিকে ব্যুরো বাংলাদেশ মহিমাগঞ্জ শাখার ম্যানেজার আবুল হাসান ঋণ গ্রহীতাদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় ঋণের টাকার কিস্তি আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয়। আমরা বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি, যা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, অনেক এনজিও বন্যাদুর্গত এলাকায় যাচ্ছে ঋণের টাকার কিস্তি নেওয়ার জন্য- এ ধরনের সংবাদ আমার কাছে আছে। সব এনজিওকে ডেকে এর কারণ জানতে চাওয়া হবে, এর পরেও যদি কোনো এনজিও ওইসব এলাকায় কিস্তি আদায়ে যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।