পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে অস্ত্রোপচারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

রক্তমোছা পরিত্যক্ত গজ-ব্যান্ডেজ পেটের ভেতর রেখে সিরাজগঞ্জে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের ঘটনায় দৈনিক সমকালে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন জাহিদুল ইসলামের নির্দেশে রোববার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ইনচার্জ ডা. আবু রায়হান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির অন্য দু'জন সদস্য হলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. সাইফুল ইসলাম ও জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ইনচার্জ জুনিয়র কনসালট্যান্ট সাহানা বেগম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সহিদ মো. সাদেকুল ইসলাম শনিবার আকস্মিক সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস পরিদর্শনে আসেন। তার নির্দেশেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে সিভিল সার্জন নিশ্চিত করেছেন।

পেটে রক্তমোছা পরিত্যক্ত গজ-ব্যান্ডেজ রেখে তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচার করায় জেলা সদরের রায়পুর মহল্লার নূপুর বেগম নামে এক গৃহবধূর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অপারেশন-পরবর্তী ইনফেকশনে নাড়ির পচনসহ নানাবিধ জটিলতায় বর্তমানে মরতে বসেছেন তিনি। জেলা সদরের সরকারি জেনারেল হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিস্ট ডা. কমল কান্তি দাস গত ৯ মে গৃহবধূর অস্ত্রোপচার করেন।

অস্ত্রোপচারের পর পেটের ভেতর রক্তমোছা পরিত্যক্ত গজ-ব্যান্ডেজ রেখেই কাটা স্থান সেলাই করা হয়। তিন দিন পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও নাড়িতে পচন ধরে পুঁজ ও মলমূত্র বের হতে থাকে তার। এরপর বেশ কটি ক্লিনিক ঘুরে গত ২১ জুলাই গৃহবধূর দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করেন বেসরকারি আভিসিনা হাসপাতালের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ সার্জন আশরাফুল ইসলাম। জেলা সদরের রায়পুর মহল্লায় বাবার জীর্ণশীর্ণ বাড়িতে গৃহবধূর মুমূর্ষু ও মানবেতর অবস্থা নিয়ে শনিবার সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হয়।