স্কুল ভবন নামমাত্র মূল্যে বিক্রি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিমাই ঘোষ, শেরপুর (বগুড়া)

বগুড়ার শেরপুরে টুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও মালপত্র গোপনে মাত্র ২৬ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম ভেঙে প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই নামমাত্র মূল্যে এই ভবনটি কেনেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী। তিনি আবার সেই ভবন ও মালপত্র দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। দু'দিন ধরে কয়েকজন শ্রমিক ওই ভবনটি ভাঙা শুরু করলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট এলাকায় ঢোল বাজিয়ে কিংবা মাইকে প্রচার করে নিলামের কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এমনকি গণমাধ্যমেও কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ঈদ-পরবর্তী ছুটি ও ব্যস্ততাকে কাজে লাগিয়ে কাগজকলমে নিলাম দেখিয়ে গোপনে এই কাজটি করা হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১০ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পাশেই আরেকটি নতুন ভবন নির্মাণ করে সেখানেই পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। তাই বিদ্যালয়টির পরিত্যক্ত ওই ভবন ও মালপত্রগুলো গত ১৮ আগস্ট নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এর আগে নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য স্কুলে চিঠি পাঠানো হয়। তবে শিক্ষা অফিস থেকে কোনো চিঠি পাননি বলে দাবি করে প্রধান শিক্ষক আরিফা খাতুন বলেন, নিলাম প্রক্রিয়ার সবকিছুই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস করেছে। আমাকে কেবল একটি রেজুলেশন পাঠাতে বলা হয়েছিল। আমি তাই করেছি। এর বাইরে আর কিছু জানা নেই বলে ওই প্রধান শিক্ষক জানান। এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চার-পাঁচজন শ্রমিক ওই ভবন থেকে টিন ও রড খুলছেন। তারা জানান, বাগড়া গ্রামের মিলনুর রহমান এই ভবন ও এর মালপত্র তাদের মহাজন আব্দুল আজিজের কাছে বিক্রি করেছেন। আর সেই মহাজনের নির্দেশে তারা কেবল ভবনটি ভাঙার কাজ করছেন।

এ প্রসঙ্গে মেসার্স ফয়সাল ফাহিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও ভবনটির ক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, মিলনুর রহমানের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় এই ভবন ও এর মালপত্র কিনেছি। এ বিষয়ে মিলনুর রহমান জানান, নিলাম ডাকে অংশ নিয়ে পরিত্যক্ত স্কুল ভবনটি কিনেছি। এতে দোষের তো কিছু দেখছি না। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সঙ্গেও কথা বলা হবে- এই বলে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা খাতুন জানান, নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, যথাযথ নিয়ম মেনেই নিলাম দেওয়া হয়েছে। পরিত্যক্ত ওই ভবনটির সরকারি মূল্য ধরা হয় ২৫ হাজার ২০০ টাকা। তিনজন ব্যক্তি এই নিলাম ডাকে অংশ নেন। উপস্থিত ডাককারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ হিসাবে মিলনুর রহমান ২৬ হাজার ২০০ টাকা বলায় তাকেই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, সরকারি স্থাপনা নিলামের ক্ষেত্রে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এই নিলামের ক্ষেত্রে সেটি করা হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।