পরিত্যক্ত ৭২ বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

শাহারুল আলম, জয়পুরহাট

জয়পুরহাটের ৩৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চলছে পাঠদানের কার্যক্রম। প্রখর রোদ আর বৃষ্টির মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মান। এরই মধ্যে বিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে। এদিকে অর্থাভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার করতে পারছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো তালিকা করে সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭২টি। যার মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের ভবনের পলেস্তারা খসে মরিচা পড়া রড বের হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হোপপীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত ভবনের এক পাশে অফিস ঘর, আরেক পাশেই চলছে শিশুদের পাঠদান। অথচ ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। ভবনটির দরজা-জানালা ভাঙা। ঝুঁকির কথা বলতেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, 'ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এটিকে অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে পরিত্যক্ত ভবনের একটিতে প্রাক-প্রাথমিকের পাঠদান এবং অন্যটিতে অফিস করা হয়েছে। আর টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করে অন্য শ্রেণির পাঠদান চলছে।'

জরাজীর্ণ টিনের ছাউনি, মাটির স্যাঁতসেঁতে মেঝে, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাঠদান চলছে জয়পুরহাট পৌর সদরের চকগোপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭১ জন হলেও শিক্ষকদের দাবি ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। চকগোপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির সময় টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। মাটির মেঝেতে পানি পড়ে কাদা হয়ে যায়। প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষটি টিনের হওয়ায় গরমের সময় সেখানে টেকা দায়। তাই শিশুদের বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায় না বিদ্যালয়ে।

আক্কেলপুরের দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিনশেডের একটি পাকা ও জরাজীর্ণ মাটির একটি ভবনে চলছে পাঠদান। মাটির ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেয়াল ফেটে গেছে। কোনো কোনো জায়গায় গর্ত হয়ে গেছে। দরজা-জানালার অবস্থা খুব খারাপ। বর্ষার সময় টিন দিয়ে পানি পড়ে। আবার ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে পড়ানো বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান জানান, বৃষ্টি হলে তাদের আর ক্লাস হয় না। সবগুলো কক্ষেই পানি পড়ে। আকাশে মেঘ দেখলেই বাবা-মা স্কুলে আসতে দিতে চান না। প্রধান শিক্ষক সাহেনা বেগম বলেন, অনেক পুরনো এ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন হবে হবে করে হচ্ছে না। বেশ কিছুদিন আগে নতুন ভবনের জন্য মাটি পরীক্ষাও করা হয়েছে। এর পরও কোনো কাজ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে মাটির ঘরে পাঠদান করতে হচ্ছে।'

জয়পুরহাট সদর উপজেলার হালট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের একটি ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যটিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি কক্ষে পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষক নাদিরা মুশফিকা বানু জানান, স্কুল দেখতে সুন্দর না হলে শিশুরা আসতে চায় না। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই রঙ করা হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে নতুন ভবন। কিন্তু ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে থাকতে পারে না। বই-খাতা ভিজে যায়। ভবনের ভগ্নদশার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। '

সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের সহযোগিতায় জেলার ৭২টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো সংস্কার বা নতুন করে ভবন নির্মাণের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত ব্যবস্থা হয়ে যাবে।