ফুলছড়ি

স্কুলমাঠে প্রধান শিক্ষকের মাষকলাই চাষ

উদাখালী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

ভবতোষ রায় মনা, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা)

বন্যায় মাঠে পলিমাটির প্রলেপ পড়ে ফসল উৎপাদনের উপযোগী হয়ে উঠেছে। তাই গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে মাষকলাইয়ের আবাদ করেছেন প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীরা। এ কারণে বিদ্যালয়টির আড়াইশ' শিক্ষার্থী খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাষকলাইয়ের গাছে পুরো বিদ্যালয়ের মাঠ ছেয়ে গেছে। কোথাও পা ফেলার জায়গাটুকু নেই। মাঠের পানি নিস্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা থাকলেও তা বন্ধ করে দিয়ে জমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, মাষকলাই চাষ করার সময় আমরা প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করেছিলাম, মাঠে মাষকলাই চাষ করায় আমাদের খেলাধুলার অসুবিধা হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে সমাবেশ করে শরীরচর্চা (পিটি) করানো বাধ্যতামূলক হলেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা আগে স্কুলের মাঠে খেলাধুলা করত। এখন সেটিও বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমি স্যারকে গত বছরও বলেছি মাঠে আবাদ করা যাবে না। কিন্তু তিনি আমার কথা শোনেননি।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি জানান, গত দুই মাস আগে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এটি বিদ্যালয়ের স্বার্থেই করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল বলেন, ছাত্রীদের অ্যাসেমব্লির জায়গা রয়েছে। কাজেই তাদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, মাঠের বিভিন্ন অংশে বিগত বন্যায় পলি পড়ে। ওই আলগা মাটি যাতে বৃষ্টিতে ধুয়ে না যায়, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু এক মৌসুমের জন্য মাষকলাই চাষ করা হয়েছে। আমি একক সিদ্ধান্তে এ কাজ করিনি। কমিটির সদস্যরা এতে মত দিয়েছেন। কালাই হওয়ার পর এগুলো বিক্রি করে সে টাকা বিদ্যালয়ের কাজেই খরচ করা হবে।

বিদ্যালয়ের মাঠে মাষকলাই চাষের বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।