নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বন্ধ নেই ইলিশ শিকার

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা)

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং পুলিশি টহলের মধ্যেই ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে চলছে অবাধে ইলিশ শিকার। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদারের নাম ভাঙিয়ে এলাকার কয়েকজন পাতি নেতা এ কাজে জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গতকাল রোববার ভোরেও পদ্মা নদীতে গিয়ে বেশ কয়েকটি নৌকায় বড় বড় কারেন্ট জালে ইলিশ শিকার করতে দেখা গেছে জেলেদের। প্রতিদিন তারা ৮ থেকে ১০ মণ করে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ জানান, জুয়েল ও রাজা নামে চেয়ারম্যানের দুই ক্যাডার পদ্মা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ শিকারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর উপজেলার সাঁড়া, পাকশী, সাহাপুর ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন সংলগ্ন নদীর বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছোট-বড় ইলিশ ধরছেন অসাধু জেলেরা।

এ ছাড়া গ্রাম পর্যায়ের 'পাতি নেতাদের' ছত্রছায়ায় কিছু জেলে প্রতি রাতে পদ্মা নদী থেকে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ ধরছেন বলে জানা গেছে। রাতের আঁধারেই এসব মাছ বিভিন্ন এলাকায় গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে। সাঁড়ার পদ্মা নদীর মোল্লাপাড়া ঘাটের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পরপরই এই গ্রামে 'চেয়ারম্যানের লোক' বনে যাওয়া দু-তিনজন পাতি নেতা জেলেদের সঙ্গে নিয়ে বড় নৌকায় পদ্মায় গিয়ে কারেন্ট জালে ইলিশ ধরছেন।

নদীপাড়ের যে এলাকায় পুলিশি টহল থাকে তার উল্টো দিকে তারা মাছ ধরে। তিনি বলেন, এত বড় নদী, অথচ দু-তিনজন পুলিশ পাহারা দেয়। মাঝদিয়া পুরোনো রেললাইন এলাকার বাসিন্দা শামসুল ইসলাম জানান, চোখের সামনে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মণ করে ইলিশ মাছ মেরে নিয়ে যাচ্ছে তারা। চেয়ারম্যানের লোক বলে তাদের কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক সাঁড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম রতন জানান, পদ্মা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের বিষয়টি এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামের মধ্যে প্রকাশ্যে এসব ইলিশ মাছ বিক্রিও করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাকিলা জাহান বলেন, বিশাল পদ্মা নদীর সব এলাকায় একযোগে নজরদারি করা অসম্ভব। তবে জেলা প্রশাসন, উপজেলা ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় নদীতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবারও পদ্মা নদী থেকে মাছ ধরার অপরাধে তিন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নদীর ইলিশ নদীতেই বাঁচিয়ে রাখার।

সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার বলেন, পদ্মায় ইলিশ শিকার বন্ধে গ্রাম পুলিশ দিয়ে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর যারা আমার পরিচয় দিয়ে ইলিশ ধরছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত করে দেখব। ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, পদ্মায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েক ইলিশ শিকারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।