আজ হানাদারমুক্ত হয় সাঁথিয়া

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

পাবনা প্রতিনিধি

আজ ৯ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাবনার সাঁথিয়া থানা শত্রুমুক্ত হয়েছিল। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর যুদ্ধ অনিবার্য আঁচ করতে পেরে সাঁথিয়ার ছাত্র-যুবক-তরুণরা সংগঠিত হতে থাকে। সাঁথিয়া হাইস্কুল মাঠে তারা প্রশিক্ষণ নিতেও শুরু করে।

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের নেতৃত্বে সেনাসদস্য কাজী মোসলেম উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেন। ২৭ মার্চ সাঁথিয়া পশু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে যুদ্ধকালীন কমান্ডার নিজাম উদ্দিন, রাবির ছাত্রনেতা ফজলুল হক, মকবুল হোসেন, লোকমান হোসেন, রেজাউল করিম, আলতাব হোসেন, আবু মুসা, আবু হানিফ, মোসলেম উদ্দিন, তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুল ওহাব, সোহরাব, রউফ, মতিনসহ তরুণরা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে যুদ্ধে অংশ নেন। সাঁথিয়ার বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ শহীদ হন। সাঁথিয়ায় পাকিস্তানি সেনারা এলাকায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয় ও ব্যাপক লুটপাট চালায়।

৮ ডিসেম্বর সাঁথিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে থানা সদর থেকে ২ কিলোমিটার পশ্চিমে নন্দনপুরে পাকিস্তানি হানাদারদের মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল আক্রমণে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরদিন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানি হানাদাররা আবার সাঁথিয়া আক্রমণের উদ্দেশ্যে আসতে থাকে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র বাধার মুখে পাকিস্তানি সেনারা আবার পিছু হটে। পরদিন ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা সাঁথিয়া থানা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সাঁথিয়া থানাকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। সাঁথিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনটি যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।