স্কুল বন্ধ রেখে আ'লীগের সম্মেলনে শিক্ষকরা

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের নলডাঙ্গায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যেতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্মেলন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নেতৃবৃন্দের নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন বলে শিক্ষকদের কেউ কেউ স্বীকারও করেছেন।

সাত বছর পর রোববার নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার যারা দলের নেতৃত্বে আসতে চান, তারা তাদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভাব্য নেতৃত্বের অনেকেই এবং তাদের নিকটজন ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে তাদের নির্দেশ মানতেই বাধ্য হয়ে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত এবং স্কুল বন্ধ রেখে সম্মেলনে হাজির হয়েছেন শিক্ষকরা।

উপজেলার বাসুদেবপুর শ্রীশ চন্দ্র বিদ্যানিকেতন, ডাক্তার নাসির উদ্দিন তালুকদার মহাবিদ্যালয়সহ উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে হাজির হন। বাসুদেবপুর শ্রীশ চন্দ্র বিদ্যানিকেতনে রোববার ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা ছিল। এ স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি তৌহিদুর রহমান লিটন দলের সাধারণ সম্পাদক পদের একজন প্রার্থী। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসিন আলী বলেন, সভাপতির নির্দেশ পেয়ে তারা অনুষ্ঠানে গেছেন। এ জন্য বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে স্কুল খোলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ডাক্তার নাসির উদ্দিন তালুকদার মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আলী বলেন, সভাপতির নির্দেশের কারণে তিনিসহ দু-একজন শিক্ষক অনুষ্ঠানে গেছেন। তবে যথানিয়মে ক্লাস হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সভাপতি পদপ্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাসহ পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলার স্বরকুতিয়া হাই স্কুলও বন্ধ রাখা হয়। এই স্কুল কমিটির সভাপতি হচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আশরাফুজ্জামান মিঠু। তিনি দলের সভাপতি পদের প্রার্থী রইস উদ্দিন রুবেলের নিকটাত্মীয়। তিনি রুবেলের পক্ষে অবস্থান নিতে স্কুলের শিক্ষকদের সম্মেলনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। তবে আশরাফুজ্জামান মিঠু এ অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেন, স্কুলে যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি প্রার্থী রইস উদ্দিন রুবেল এসব অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, যারা কাউন্সিলর তারাই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কেউ সম্মেলনে আসেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী বলেন, তার জানামতে উপজেলার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল না। যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা চিন্তা করে কোনো প্রতিষ্ঠানের মাঠে সম্মেলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। উপজেলা অফিসের সামনের মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এবার দলের সভাপতি পদে লড়াইয়ে রয়েছেন রইস উদ্দিন রুবেল, উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম ফিরোজ, আব্দুস সকুর ও ফকরুদ্দিন ফুটু। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন তৌহিদুর রহমান লিটন, পৌর কমিটির সাবেক সভাপতি আইয়ুব আলী হাজি ও আকতারুজ্জামান আক্তার।