পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে দুই হাজার শিশু

মিঠাপুকুর

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০

রংপুর অফিস

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা আমেনা বেগম (২৬)। করোনাকালে তার শ্রমিক স্বামী সাইফুল ইসলামের বন্ধ হয়ে যায় কাজ। ফলে তিন বেলা খাবার নিয়ে টানাপোড়েন চলে সংসারে। এর মধ্যেই তাদের সংসারে আসা নতুন অতিথি আনিসুলের বয়স ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। এই টানাপোড়েনের সময় তাকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া আমেনার কাছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। এ সময় সংসদ সদস্য, জনপ্রশাসন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচএন আশিকুর রহমান স্থানীয় বিত্তশালীদের নিয়ে 'চলো করোনা জয় করি'র নামে তহবিল গঠন করে আমেনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরপর থেকে প্রতি মাসে দুধ, চিনি, সুজিসহ পুষ্টিকর খাবার পেয়ে বেড়ে উঠছে আমেনার সন্তান আনিসুল। এভাবে উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের দুই হাজার শিশুকে আনা হয়েছে এ পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায়।

করোনাকালে শিশু পুষ্টির বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিসহ নিজস্ব অর্থে 'চলো করোনা জয় করি' নামে একটি তহবিল গঠন করেন। উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউনিয়নের সব শিশুকে পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায় আনতে ইউনিয়ন পরিষদ, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে শিশুদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে। পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায় প্রতি মাসে উপজেলার খোরাগাছ, রানীপুকুর, পায়রাবন্দ, ভাংনীসহ ১৭ ইউনিয়নের ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী দুই হাজারেরও বেশি শিশুকে সুজি, চিনি, দুধসহ পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। প্রসূতি ও অন্তঃসত্ত্বাসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রমুখী করা হচ্ছে এ কার্যক্রমের আওতায়। মিঠাপুকুরের এ কার্যক্রমকে মডেল হিসেবে দেখছেন অনেকে।

'চলো করোনা জয় করি' কার্যক্রমের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মেজবাহুর রহমান বলেন, যেসব শিশুর বয়স ছয় মাস তাদের এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে যাদের বয়স এক বছর হয়ে গেছে, তারা এ কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ছে।

সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান বলেন, যতদিন দেশে করোনা থাকবে, ততদিন এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।