৬ মাসে ২০০ জনের মৃত্যু

বগুড়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০

বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে শঙ্কাও। শুক্রবার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০ বছর বয়সী ইসরাজুল হকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জেলায় ছয় মাসে করোনায় ২০০ জনের মৃত্যু হলো।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল প্রথম একজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় আট হাজার ৫৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯২ দশমিক ১৮ শতাংশ বা সাত হাজার ৮৬৩ জন সুস্থ হয়েছেন। তবে মৃত্যুর হার ঠেকেছে ২ দশমিক ৩৪ শতাংশে।

বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২২ মে রাতে সাবেক সংসদ সদস্য কামরুন নাহার পুতুল মারা যান। ওই মাসে আর কেউ মারা না গেলেও জুন মাস থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ওই মাসে বগুড়ায় করোনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জুলাই ও আগস্ট মাসে ৫২ জন করে আরও ১০৪ জন মারা যান। অর্থাৎ ওই তিন মাসে ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর হার ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাসে করোনায় আক্রান্তের হারও ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ শতাংশ। এমনকি আক্রান্তদের মধ্যে ২১ জুন এক দিনে সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করে। ওই মাসে করোনায় জেলায় মোট ২৭ জন মারা যান। এরপর অক্টোবর মাসে ১০ এবং ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় অক্টোবর মাসে করোনার সংক্রমণ কম ছিল। ১ অক্টোবর ১১৫টি নমুনা পরীক্ষায় মাত্র পাঁচজনের শরীরে করোনার উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ আক্রান্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৩৪। অবশ্য নভেম্বরের শুরু থেকে সংক্রমণ হার বাড়তে শুরু করে। ২০ নভেম্বর আক্রান্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ২১। ওইদিন ১০৩টি নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, মাস্ক পরা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন অনেকে। তবে কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, ওই অভ্যাসগুলো মানুষ ভুলতে বসেছে বা অবহেলা করছে। ফলে করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে। এরই মধ্যে করোনায় সংক্রমন হার বেড়ে গেছে। অতএব করোনা সংক্রমন থেকে রক্ষা পেতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।