সুন্দরগঞ্জ

তিস্তায় বিলীন হাজারো ঘর

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

তিস্তায় বিলীন হাজারো ঘর

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে হরিপুর চর এলাকায় তিস্তার ভাঙন- সমকাল

থামছে না তিস্তার ভাঙন। অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। গত ছয় মাসের অব্যাহত ভাঙনে সহস্রাধিক বসতবাড়িসহ হাজারো একর জমি হারিয়েছেন তারা। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে হাজারো বসতবাড়ি এবং আবাদি জমি।

কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে না উঠতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার লাগামহীন ভাঙন চরবাসীকে দিশেহারা করে তুলেছে। ভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি সরাতে হচ্ছে তাদের। তিস্তার পানি কমে যাওয়ার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। যতই পানি কমছে ভাঙছে নদী। বিশেষ করে হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে তীব্র আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সংশ্নিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ছয় মাসের অব্যাহত ভাঙনে সহস্রাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে হাজার একর জমির ফসল তিস্তায় চলে গেছে। হরিপুর ইউনিয়নের মাদারিপাড়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী জানান, ৫৫ বছর বয়সে তিনি ১০ বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরে তিনবার ভেঙেছে তার ঘর। পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি আর নদীভাঙন মোকাবিলা করতে পারছেন না। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি জানান, নদীভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে বৃহত্তর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আমাদের পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, নদীভাঙন রোধে বৃহৎ প্রকল্পের প্রয়োজন। এরই মধ্যে ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ইউএনও কাজী লুতফুল হাসান জানান, ভাঙন রোধে জিও টিউব ও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ে নদীভাঙনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি জানান, নদীভাঙন বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার জিও টিউব ও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নদীভাঙন রোধে একাধিক প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে।