জয়পুরহাট সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর আত্মহত্যার মামলায় মাসুদ রানা নামে একজনকে ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রোস্তম আলী এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জজ আদালতের পিপি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল।

মাসুদ রানা সদর উপজেলার হরিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। তার অনুপস্থিতিতেই এ রায় দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৩০ জুন দুপুরে জয়পুরহাট সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামে ওই কিশোরী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির পাশে একটি পাটক্ষেতে যায়। এ সুযোগে মাসুদ রানা পাটক্ষেতে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ধর্ষক মাসুদ রানা পালিয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার হওয়ায় ২ জুলাই ওই কিশোরী লোকলজ্জা সহ্য করতে না পেরে নিজ ঘরে কীটনাশক সেবন করে। পরিবারের লোকজন তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করলে সেই রাতেই কিশোরী মারা যায়। এ ঘটনায় পরের দিন কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। পরে একই বছরের ১৮ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দেওয়ান আসাদুল হক। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।

আদালতের পিপি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ওই কিশোরী লোকলজ্জায় সেদিন আত্মহত্যা করেছিল। আদালত এ মামলার দুটি ধারায় মাসুদ রানাকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন। ঘটনার পর থেকে আসামি পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করার পর এ রায় কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন