রংপুরের শ্যামপুর চিনিকল বন্ধ থাকায় মিঠাপুকুর উপজেলায় অবৈধ মাড়াইকলে (পাওয়ার ক্রাশার মেশিন) আখ মাড়াইয়ের মহোৎসব চলছে। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দিনরাত চলছে মাড়াই।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লোকসানের বোঝা কমাতে সরকারি সিদ্ধান্তে দেশের ছয় চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর চিনিকল। এই চিনিকলের আওতাভুক্ত মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন। বন্ধ হওয়ার পর চিনিকল এলাকায় চলছে শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষিদের আন্দোলন। উৎপাদিত আখ নিয়ে চাষিদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। মাঠে পড়ে থাকা আখ নিয়ে চাষিরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিনিকলের আওতাভুক্ত এলাকায় অবৈধভাবে পাওয়ার ক্রাশার মেশিন বসিয়ে আখ মাড়াই শুরু করেছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ও যমুনেশ্বরী নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে আখ মাড়াইয়ের চিত্র। সেখানে অন্তত শতাধিক মাড়াই মেশিন স্থাপন করে চলছে আখের রস সংগ্রহ। সেই রস বড় চুল্লিতে জাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে গুড়। অনেকে আবার নতুন করে পাওয়ার ক্রাশার মেশিন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বালুয়া মাসিমপুরের আবদুর রহমান বলেন, 'সুগার মিল বন্ধ, সেই জন্যে কুশার (আখ) কাজে নাগাওছি। আর গুড়ের চাহিদা বেশি। প্রতি কেজি গুড় পাইকারি ৭০ টাকায় বিক্রি হওচে। যে অবস্থা এবার মনে হওচে বৈশাখ মাস পর্যন্ত কুশার মাড়াই করা যাইবে।' পলিপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দিন বলেন, নিজের জমির আখ। মিল বন্ধ হওয়ায় মেশিনে আখ মাড়াই করছেন। ৮০০ কেজি আখে ৫৬ কেজি গুড় হয়। দিনে কমপক্ষে ৬ মণ গুড় তৈরি করা সম্ভব।

যমুনেশ্বরী নদীতীরে মাড়াইকারী জয়নাল আবেদীন জানান, তাদের এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১৫টি স্থানে আখ মাড়াই চলছে। তার পাশের বাড়ির রেজাউল হক ও নাসরুল হক ক্রাশার মেশিন দিয়ে আখ মাড়াই করছেন। নতুন মেশিন স্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন সাইদুল হক, হামিদ মেম্বার, লোকমান হোসেন ও সৈদুল হক।

শ্যামপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার সরকার বলেন, কোনো কোনো চাষির মধ্যে ধারণা জন্মেছে যে, আখ নেওয়া হবে না। তাই তারা আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি করছেন। তাদের নামের তালিকা করে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। এদিকে শ্যামপুর জোনের উৎপাদিত সমুদয় আখ সংগ্রহ করে জয়পুরহাট চিনিকলে পাঠানো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন