জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক লালমনিরহাট সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায় ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীরপ্রতীক ও প্রয়াত আবুল হোসেন এমপির নাম থাকায় বিস্মিত ও হতবাক হয়েছেন তাদের পরিবার ও লালমনিরহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায় তাদের নাম এভাবে আসবে এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তাদের পরিবার।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকার ১৪০ ক্রমিক নম্বরে আবুল হোসেন এমপি ও ১৭৬ নম্বরে ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীরপ্রতীকের নাম রয়েছে। এ ছাড়া ওই তালিকায় শহীদ খায়রুজ্জামান, মেজর (অব.) এএফএস কামরুল হাসানসহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে, যারা লালমনিরহাটে সর্বজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। হঠাৎ করে তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায় আসায় বিব্রত তাদের পরিবারের লোকজন। আগামী ৩০ জানুয়ারি তাদের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত দলিল দস্তাবেজ দাখিল করতে হবে।

দেশে খেতাবপ্রাপ্ত ৪২৬ জন বীরপ্রতীক রয়েছেন। বীরপ্রতীক তালিকায় ১৫৯ নম্বরে রয়েছে লালমনিরহাটের ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হকের নাম। এখন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায়ও তার নাম থাকায় তিনি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধা সমকালকে বলেন, 'আমরা কোন দেশে আছি? জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমাকে আবারও প্রমাণ দিতে হবে আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি?' তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের রিক্রুটিং কর্মকর্তা হিসেবে জামুকা সদস্য মোতাহার হোসেন এমপিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য রিক্রুট করেছিলেন তিনি। যাচাই-বাছাই তালিকায় তার নাম থাকলে জামুকা সদস্য মোতাহার হোসেন এমপির নামও থাকা উচিত ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, গণপরিষদের সদস্য, সংবিধানে স্বাক্ষরদাতা প্রয়াত আবুল হোসেন এমপির নামও রয়েছে ওই তালিকায়। সম্প্রতি পিএইচডি প্রোগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ও সাহসী অবদানের ওপর গবেষণা প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল। তার নাম যাচাই-বাছাই তালিকায় থাকায় ক্ষুব্ধ তার পরিবারের সদস্যরা।

প্রয়াত আবুল হোসেনের বড় ছেলে অ্যাডভোকেট গোলাম হায়দার শিশু জানান, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গবেষণা করবে। অথচ তার নাম কিনা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিষয়টি খুবই কষ্টকর ও বিব্রতকর।

লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার জানান, যার হাত দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হয়েছে, যিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে জামুকা, যা খুবই লজ্জাজনক। জামুকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ না করে জামুকা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায় সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও সর্বজন স্বীকৃত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে বিরোধের জন্ম দিয়েছে।

জামুকার সদস্য ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও লালমনিরহাট-২ আসনের সাংসদ মোতাহার হোসেন সমকালকে বলেন, যাদের কাগজের কমতি রয়েছে, তাদের সবাইকে ডাকা হচ্ছে। আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কাজ করছে জামুকা।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদর উপজেলার সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় সমকালকে বলেন, জামুকা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকা পাঠিয়েছে। শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের নাম তালিকায় থাকায় বিষয়টি নিয়ে তারাও অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন।

মন্তব্য করুন