শেরপুরে 'গায়েবি ভোট'

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২১

†kicyi (e¸ov) cÖwZwbwa

ভোটারের চেয়ে ভোট বেশি। খাতা-কলমে ভোট দিয়েছেন এক হাজার ৬৫৩ জন। কিন্তু গণনার সময় ব্যালট পাওয়া যায় এক হাজার ৬৭৩ জনের। প্রাপ্ত ভোটের অতিরিক্ত ২০ গায়েবি ভোট ও ভোটার সম্পর্কে কিছুই জানেন না সংশ্নিষ্টরা। ঘটনাটি ঘটেছে দ্বিতীয় ধাপের বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে।

এসব অতিরিক্ত ব্যালট কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। পৌরসভা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এ ব্যালট সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থী। সেই সঙ্গে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ফের নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সোমবার সকালে শেরপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ কুণ্ডু। এ সময় কাউন্সিলর প্রার্থী তাপস মালাকার, নাজমুল হক লুলু ও তাদের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ কুণ্ডু বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার দুই হাজার ১১৫ জন। ভোট দেন এক হাজার ৬৫৩ জন দেন। খাতা-কলমে সেটিই লিপিবদ্ধ আছে। এর মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৪৮১ ভোট, সোমেন্দ্র নাথ ঠাকুর শ্যাম পেয়েছেন ৪৮৬ ভোট, তাপস মালাকার ৪২৯ ভোট ও নাজমুল লুলু পেয়েছেন ২১৫ ভোট। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৪২টি। মোট প্রদত্ত ভোট এক হাজার ৬৫৩টি। কিন্তু ঘোষিত ভোটের ফলাফল ও ব্যালটের সঙ্গে কোনো মিল নেই। এমনকি গণনায় প্রাপ্ত ভোটের ব্যালট পাওয়া যায় এক হাজার ৬৭৩টি। অর্থাৎ অতিরিক্ত থাকে আরও ২০ ব্যালট। বিষয়টি জানতে চাইলে এই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস কোনো সদুত্তর দেননি। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের কথা না শুনে ফলাফল নয়ছয় করে পাঁচ ভোট বেশি দেখিয়ে কাউন্সিলর পদে সোমেন্দ্র নাথ ঠাকুর শ্যামকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এর পর তড়িঘড়ি করে এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ভোটকেন্দ্র থেকে চলে যান। জালিয়াতির বিষয়টি জানিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা।

বিদ্যুৎ কুণ্ডু আরও বলেন, সোমেন্দ্র নাথ ঠাকুরকে জেতাতে নির্বাচন চলাকালীন বেশ কিছু ফাঁকা ব্যালট দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। সেসব ব্যালটে সিল মেরে কৌশলে বাক্সে ঢোকানো হয়। পরে আর হিসাব মেলাতে পারেননি। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন এবং ফের ভোট নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, একাধিকবার ভোট গণনা করে কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ কুণ্ডুর উটপাখি মার্কার বান্ডিলে বেশ কিছু জাল ব্যালট পাওয়া যায়। পরে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে সেসব বাতিল করা হয়। এতে একটু গরমিল হতে পারে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আছিয়া খাতুন এ প্রসঙ্গে বলেন, অতিরিক্ত ব্যালটগুলো সম্ভবত অন্য কোনো কেন্দ্রের।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।