সাঁথিয়া

এলজিইডির সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২১

এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা

এলজিইডির সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

সাঁথিয়ায় আরসিসি সড়কের নির্মাণকাজে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী- সমকাল

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার এলজিইডির আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানা যায়, সাঁথিয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জি ও বি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে আজাহার-আফসার আলী সড়কের তিন মাথা মোড় থেকে পোস্ট অফিস হয়ে ডা. আবুল হোসেনের বাড়ির মোড় পর্যন্ত ২৫০ মিটার আরসিসি সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ কাজে দায়িত্ব পায় আহম্মেদ এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের সংশ্নিষ্ট দায়িত্বরত অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা ওঠে। প্রথমত সড়কে নিম্নমানের রড দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে ঠিকাদারের বিতর্ক হয়। পরে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করলে নিম্নমানের রড সরিয়ে নেওয়া হয়।

তাছাড়া ঢালাই মিক্সিংয়েও ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। একদিকে মরা পাথর তা আবার এক বস্তা সিমেন্টে পাঁচ কড়াইয়ের পরিবর্তে সাত কড়াই পাথর ও দুই কড়াই বালুর পরিবর্তে তিন টুকরি বালু দিয়ে ঢালাই মিক্সিং করা হয়েছে। কড়াইয়ের পরিবর্তে টুকরি ব্যবহারের কারণ হিসেবে জানা গেছে, টুকরিতে বেশি পরিমাণ বালু দেওয়া যায়। মরা পাথর ও ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত নিম্নমানের বালুর ব্যবহার হওয়ায় কাজের মান নিম্নমানের হয়েছে। অন্যদিকে, ৮ ইঞ্চি ঢালাইয়ের স্থলে ৭ ইঞ্চি ঢালাই করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে জানালেও তারা কর্ণপাত না করেই ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন।

প্রকৌশল অফিসের এক কর্মচারী বলেন, আজহার-আফসার আলী সড়কের প্রথম অংশের ১২ মিটারের মধ্যে থেকে স্যাম্পল নিয়ে ল্যাবে পাঠানো হবে। কারণ এই ১২ মিটার কাজ শিডিউল অনুযায়ী করা হয়েছে। তবে পুরো কাজেই নয়ছয় হয়েছে বলে তিনি জানান।

কাজের অনিয়ম প্রসঙ্গে বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, পুরো কাজেই অনিয়ম হয়েছে। সড়ক নির্মাণকাজে এক বস্তা সিমেন্টের সঙ্গে সাত থেকে নয় কড়াই পাথর ও তিন-চার টুকরি বালু দিয়ে ঢালাই মিক্সিং করা হয়েছে। অথচ সংশ্নিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি উল্টো আমাদের ওপর রেগে ওঠেন এবং অশালীন কথাবার্তা বলেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, কাজের মান খুব ভালো হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম করা হয়নি। এক বস্তা সিমেন্টে দুই টুকরি বালু ও পাঁচ কড়াই পাথর দিয়েই ঢালাই মিক্সিং হয়েছে।