রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাণহীন টুকিটাকি চত্বর

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২১

নুরুজ্জামান খান, রাবি

প্রাণহীন টুকিটাকি চত্বর

আড্ডাবিহীন, প্রাণহীন, ফাঁকা পড়ে থাকা টুকিটাকি চত্বর- সমকাল

পুরোটাই যেন ঘাসবন। একপাশে গরু আয়েশ করে বসে আছে। মানুষের আনাগোনা নেই। চারদিক নোংরা হয়ে আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরের বর্তমান চিত্র এটি। যেখানে সূর্যোদয়ের প্রথম আলোয় শুরু হতো প্রাণচঞ্চলতা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হতো চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ, চলত আড্ডা, গান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই টুকিটাকি চত্বর এখন প্রাণহীন।

করোনার কারণে গত বছর মার্চে বন্ধ হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এর পর থেকে যেন জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে টুকিটাকি। আবাসিক হলগুলোও বন্ধ। টুকিটাকি চত্বরে আগের মতো আড্ডা জমে ওঠে না। গলা ছেড়ে কেউ গান ধরে না। প্রাণচঞ্চল টুকিটাকি হঠাৎ করেই তাই প্রাণহীন হয়ে গেছে। তবে প্রাণহীন টুকিটাকি যেন তার প্রাণ ফিরে পেতে চায়।

তিন যুগ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি চত্বরে 'টুকিটাকি' দোকানটি চালু করা হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে টুকিটাকি। সবার অজান্তেই একসময় সেই লাইব্রেরি চত্বরটি হয়ে যায় টুকিটাকি চত্বর।

জানুয়ারির এ সময়টা টুকিটাকি মুখরিত থাকত নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের আড্ডায়। নাম টুকিটাকি হলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই পাওয়া যেত এখানে। এ ছাড়া নানা রকম মুখরোচক খাবারের ভ্রাম্যমাণ দোকান, ছবির দোকান, অনলাইনে চাকরি খোঁজার বুথ থেকে শুরু করে পড়াশোনাও চলত এই চত্বরটিতে। সেই ভোরবেলা থেকে রাত এমনকি মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডা চলত রাবির টুকিটাকি চত্বরে। মাত্র এক বছর আগের সেই টুকিটাকি এখন আর নেই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র মুস্তাফিজ রনি জানান, মুম্বাই ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স শেষ করে দেশে ফিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তিনি বলেন, মনে হচ্ছিল এই ক্যাম্পাসকে আমি চিনি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান বলেন, প্রশাসন টুকিটাকি চত্বরটি উচ্ছেদ করে দিয়েছে। প্রাণচঞ্চলতা হারিয়ে টুকিটাকি এখন ধু-ধু মরুভূমি। প্রাণচঞ্চল টুকিটাকি হঠাৎ প্রাণহীন- এটা কল্পনাও করা যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রহমান রাজু বলেন, টুকিটাকি শুধুই একটি চত্বর নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রও। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আড্ডা দেন, পাশাপাশি বাস্তব জীবনের শিক্ষা অর্জন করেন। সেই আড্ডাস্থলে এখন সুনসান নীরবতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি পরিচালক ও আইন বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, দ্রুতই টুকিটাকি তথা গোটা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে আসবে এ কামনা করি।