বোরো মৌসুমে সরকারি মূল্য তালিকা মানছেন না সাদুল্যাপুর উপজেলার সেচ পাম্প মালিকরা। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায় এবার কৃষকদের গুনতে হবে অতিরিক্ত ২৮ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তি মালিকানা সেচ পাম্প মালিকদের কাছে এভাবেই জিম্মি কৃষকরা।

উপজেলার এগারো ইউনিয়নে এবার ১৫ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে দুই হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা দিচ্ছে সরকারের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। বাকি ১৩ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা দিচ্ছেন ব্যক্তি মালিকানার সেচ পাম্প মালিকরা। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়মে বোরোতে সরকারিভাবে উপজেলার ধাপেরহাট ও ইদিলপুর ইউনিয়নে ৩৩ শতকের প্রতি বিঘায় সেচসুবিধা পেতে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৮০০ টাকা। উপজেলার রসুলপুর, নলডাঙ্গা, দামোদরপুর, কামারপাড়া, জামালপুর, বনগ্রাম, ভাতগ্রাম, ফরিদপুর ও ক্ষোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নে ৩৩ শতকের প্রতি বিঘায় সেচ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা। খয়েরি (লালমাটি) এলাকা হওয়ায় ধাপেরহাট ও ইদিলপুর ইউনিয়নের জমিতে বেশি সেচ প্রয়োজন হয়। তাই ওই দুই ইউনিয়নে সেচ চার্জ বেশি। তবে কৃষকদের কাছ থেকে এই তালিকার বেশি অর্থ নেওয়া যাবে না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাইরে সাদুল্যাপুরে ব্যক্তি মালিকানা সেচ পাম্প আছে ছয় হাজার ১৩৬টি। এর মধ্যে বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপ ৯৪টি, ডিজেলচালিত গভীর নলকূপ দুটি, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প ১৩টি, বিদ্যুৎচালিত অগভীর নলকূপ এক হাজার ২৩০টি, ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপ চার হাজার ৭৫০টি ও ডিজেলচালিত এলএলপি সেচ পাম্প ৪৭টি। ব্যক্তি মালিকানা সেচ পাম্প থেকে সেচসুবিধা দেওয়া হচ্ছে ১৩ হাজার ৩৬৮ হেক্টর বোরো জমিতে।

ধাপেরহাট ইউনিয়নের তীলকপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি বিঘা জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য তিন হাজার ৩০০ টাকায় সেচ পাম্প মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। অথচ ধাপেরহাট ইউনিয়নে প্রতি বিঘায় সরকার নির্ধারিত সেচ চার্জ এক হাজার ৮০০ টাকা। সেখানে এই কৃষক প্রতি বিঘায় এক হাজার ৫০০ টাকা বেশি দিচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন জামালপুর ইউনিয়নের বড় জামালপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম মণ্ডলসহ অনেকে।

উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও নবী নেওয়াজ বলেন, নির্ধারিত মূল্য তালিকা থেকে বেশি অর্থ নিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর কাজীবাড়ি সন্তোলা গ্রামের সেচপাম্প মালিক মোজাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এখন পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত সেচ মূল্যতালিকা পাননি। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া জানান, উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সব সেচপাম্প মালিকের হাতে সরকার নির্ধারিত সেচ মূল্যতালিকা পৌঁছানো হয়েছে। এর পরও কেউ না পেয়ে থাকলে তার কাছে দ্রুত তালিকা পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন