জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রায় ২২ বছর আগে চালু হয়েছে। উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে নির্মিত প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণ করার পর একবারও সংস্কার বা মেরামত হয়নি। এতে ওই প্রকল্পে আশ্রয় নেওয়া ৪০ পরিবারের মধ্যে ২০ পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। অবশিষ্টরা কোনো রকমে কষ্টে বসবাস করছে।

জানা গেছে, এলাকার অসহায় দরিদ্র গৃহ ও ভূমিহীন মানুষের স্থায়ীভাবে বসবাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে সোতারগাড়ী নামক সরকারি পুকুর পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই প্রকল্পে বসবাসকারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পুকুরের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশ দিয়ে কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করা হলেও সংস্কারের অভাবে দুটি রাস্তা ভেঙে পুকুরে চলে যাওয়ায় যানবাহন নিয়ে চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।

প্রকল্পটির চারটি ব্যারাকে ১০টি করে মোট ৪০টি ঘর টিনের বেড়া ও ওপরে টিনের ছাউনি দিয়ে নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ব্যারাকের জন্য পৃথক ৪টি করে মোট ১৬টি শৌচাগার এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য ৪টি টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও সংস্কার ও মেরামতের অভাবে সবক'টি শৌচাগার ব্যবহারের অনুপোযোগী এবং টিউবওয়েলগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রকল্পে বসবাসকারী পরিবারের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সভা এবং সেমিনার করার জন্য কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হলেও সেটিরও জরাজীর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।\হএ প্রকল্পে বসবাসকারী নারায়ণ চন্দ্র অভিযোগ করেন, ঘরগুলো নির্মাণের সময় লোহার অ্যাংগেলের পরিবর্তে কাঠের বাটাম দিয়ে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘরের মেজে ও চার পাশ ইট দিয়ে পাকা করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে ঘরের টিনের বেড়ার নিচের অংশ দিয়ে সাপ, পোকা-মাকড় ঢুকে আক্রমণ করে।\হআশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী মুর্শিদা বলেন, ঘরের চারদিকে দরজা-জানালা এবং টিনের বেড়া ও ছাউনিতে জং ধরে বিভিন্ন স্থানে ফুটো হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি এবং শীতকালে ঠান্ডা বাতাসে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোনো রকমে কষ্ট করে রাত্রিযাপন করতে হয়। নাজমা বেগম বলেন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে খোলা আকাশের নিচে কিংবা ঝোপ-জঙ্গল ব্যবহার করতে হচ্ছে। আরও এক বসবাসকারী মীনা রানী বলেন, বর্তমানে এখানে কোনো টিউবওয়েল সচল না থাকায় প্রতিদিনের বিশুদ্ধ খাবার পানি দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।

অন্যত্র বসবাসকারী জাইরন বিবি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করার পর থেকে কোনো প্রকার সংস্কার ও মেরামত করা হয়নি। 'নুন আনতে পান্তা ফুরায়' নিজেরা সংস্কার করে কতই আর ঘর রক্ষা করব। অবশেষে ঘর ছেড়ে স্বামীর ভিটামাটিতে বসবাস করছি।\হআলমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার নাদিম বলেন, দৌলতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের দৈনন্দিন জীবনমান এবং প্রকল্পের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা পরিষদে সমন্বয় সভার মাধ্যমে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ এলে সমস্যার সমাধান করা হবে।\হইউএনও এএফএম আবু সুফিয়ান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয়ণরত বসবাসকারী পরিবার নিজ উদ্যোগে নিজেদের ঘর সংস্কার করা দরকার। এ ছাড়া অন্যান্য সমস্যা তদন্ত করে সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন