নাব্য সংকটে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ সবক'টি নদ-নদী। নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলসহ নদীপথে যাতায়াতকারীরা হেঁটেই পারাপার হচ্ছেন। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে আন্তঃজেলা ও অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটের অধিকাংশ পথ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নদীপথে যাতায়াতকারীরা। ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্য ফেরাতে বিগত দু'বছর ধরে অপরিকল্পিতভাবে খনন করার ফলে মিলছে না কোনো সুফল। এ অবস্থায় ব্রহ্মপুত্রসহ অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে ১০ নদ-নদী।

থৈ থৈ পানিতে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়া নদী এলাকার মানুষের কাছে ভাঙন আর বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়ার আতঙ্ক। এখন প্রমত্তা সে সব নদ-নদীর বুকে শুধু দিগন্তজোড়া ধু-ধু বালুচর। পানি না থাকায় জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়াসহ সব নদ-নদী এখন সরু খালের রূপ নিয়েছে। নাব্য সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন জেলার সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে নৌ চলাচলের অধিকাংশ ঘাট। নৌকার পরিবর্তে হেঁটে, ট্রাক্টর ও ঘোড়ার গাড়িতে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা নদী পার হচ্ছে মানুষজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে এ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়াসহ ১০টি নদ-নদী অস্তিত্ব সংকটে।

জেলার ১৬৫ চরের মানুষের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিম নদীপাড়ের ৬০টি হাট-বাজার সম্পৃক্ত। আর পড়ালেখার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ হাজার ছেলেমেয়েকেও আসতে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত সহজ হলেও নভেম্বর থেকে নদীতে পানি না থাকায় বালুর চর হেঁটে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে। সরকারি নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়াসহ ১০টি নদ-নদী অস্তিত্ব সংকটে। ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় যোগ হয়েছে ব্যাপক দুর্ভোগ।\হওই পথে চলাচলকারী সদর উপজেলার মোল্লার চর ইউনিয়নের চিথুলিয়া দিগর গ্রামের বাসিন্দা এরশাদ আলম বলেন, যে কয়টি নৌ-রুট চালু আছে সে পথেও স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না নৌকা। ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য সংকটে গেল দুই বছর থেকে ড্রেজিং করলেও মিলছে না কোনো সুফল। নদীর ড্রেজিং করা বালু নদীতে ফেলাসহ অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে সরকারি কোটি টাকা পানিতে ফেলা হচ্ছে।\হবাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিটিএ'র বালাসী নৌঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি মো. মাজু মিয়া বলেন, নাব্য সংকটে নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। অনেক রুট বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এর ফলে ওই সব নৌ-রুটের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

ড্রেজিং-এর অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পাওয়া যায়নি বিআইডব্লিটিএ'র (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ) কাউকে। তবে জনগণের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে নদ-নদীগুলোকে বাঁচাতে কুড়িগ্রাম থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ডেল্টাপ্ল্যানের পরিকল্পনায় ড্রেজিংয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান।\হগাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কের পাশে অবস্থিত বালাসীঘাট সংলগ্ন ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান রোকন বলেন, নদ-নদীগুলো ড্রেজিং করে সারা বছর নৌরুট চালু রাখার পাশাপাশি দীর্ঘ প্রত্যাশিত ব্রহ্মপুত্র টানেল বাস্তবায়ন করবে এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের মানুষের।

মন্তব্য করুন