জয়পুরহাট সদর উপজেলার বম্বু ও পুরানাপৈল ইউনিয়নের ধারকি ও হেলকুন্ডা মৌজার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সোয়া ছয় কিলোমিটার খালের খননকাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বোরোর ভরা মৌসুমে এ খাল খননের মাটি সংলগ্ন ধানক্ষেতে ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের শত শত বিঘা জমির ধান নষ্ট হচ্ছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার হেলকুন্ডা খাল পুনঃখননকাজ করতে বরাদ্দ আসে ৯০ লাখ টাকা। এ কাজটি পায় যশোরের মিশনপাড়ার মেসার্স নূর হোসেন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিনিধি হিসেবে খননকাজ দেখভাল করছেন ওই প্রতিষ্ঠানের মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়েছে। খালের দুই পাশের জমির ধান মাটিচাপা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সদর উপজেলার হেলকুন্ডা, হানাইল, কাদিরপুর মৌজার কৃষকরা ফসলের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ধান কেটে ঘরে না তোলা পর্যন্ত খননকাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।\হকৃষকদের দাবি, খালটি ১০ ফুট চওড়া করে কাটা হলেও উভয় পাশে ৪৫ ফুট জমি দখল করে আধা পাকা ধানের ক্ষেত নষ্ট করে খনন ও মাটি ভরাটের কাজ করছেন ঠিকাদারের লোকজন। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে তারা জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের দাবি, আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এসব জমির পাকা ধান ঘরে উঠবে। ধান তোলা পর্যন্ত খালের খননকাজ বন্ধ রাখা হোক। তা না হলে ফসলের ক্ষতিপূরুণ দেওয়া হোক। তবে ঠিকাদারের লোকজনের বক্তব্য, এটি সরকারি কাজ, বাধা দিলে কী হতে পারে সেটা আপনারাই ভালো জানেন।\হঠিকাদারের প্রতিনিধি মুক্তার হোসেন জানান, তারা কৃষকের জমিতে নয়, খাল খনন করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায়। এতে অন্যরা কে কী বলল তাতে কিছুই যায় আসে না তাদের।\হএ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম সমকালকে জানান, সরকারের নীতিমালা মেনে হেলকুন্ডা খাল পুনঃখননের কাজ করা হচ্ছে। কৃষকের জমির ফসল নষ্ট করে এ কাজ করা হয়নি। এ বিষয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।\হজেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলাম বলেন, কৃষকের ধানের ক্ষতি করে খাল খনন করা যাবে না। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন