দেশে প্রতি বছর যত মানুষের মৃত্যু হয় তার ২৮ শতাংশই ঘটে পরিবেশ দূষণজনিত অসুখ-বিসুখের কারণে। এর পরও থেমে নেই পরিবেশ বিধ্বংসী এসব কর্মকাণ্ড। সব নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অবাধে গড়ে উঠেছে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির দুটি কারখানা। উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের জীবনপুর ও গোপালপুর গ্রামে এরকম দুটি কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা। এতে একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, অন্যদিকে গাছপালা ও বন উজাড় হচ্ছে।

তাছাড়া কাঠ পোড়ানোয় পরিবেশ দূষিত হয়ে এলাকার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের জীবনপুর গ্রামের বাসিন্দা বকুল মিয়া রংপুর চিনিকলের পূর্বপ্রাচীর ঘেঁষে এবং একই ইউপির গোপালপুর গ্রাম এলাকায় ওই গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেন পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র-সংলগ্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন কয়লা তৈরির কারখানা। সেখানে অবাধে পুড়ছে কাঠ। ঘনবসতি এলাকায় কাঠ পোড়ানোয় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অভিযোগ করেও লাভ হচ্ছে না।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, কয়লা কারখানার মালিকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। এলাকার কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। অতিদ্রুত কারখানা বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্নিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে কারখানার মালিক মো. বেলাল বলেন, এক বছর হয়েছে কারখানাটি তৈরি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত এখানে প্রশাসনের লোকজন আসেনি। মাঝেমধ্যে শুধু সাংবাদিকরাই আসেন।

অন্যদিকে, আরেক মালিক মো. বকুল মিয়া বলেন, সংশ্নিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করেই নিজের টাকায় কারখানা গড়েছি। আপনাদের লেখার প্রয়োজন মনে হলে লিখেন।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মজিদুল ইসলাম বলেন, কাঠ পোড়ানোয় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হয়। এতে চর্ম, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

গোবিন্দগঞ্জ ইউএনও মো. আবু সাঈদ বলেন, পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনে, এমন কারখানা চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন